• শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
রবিবারই আসছে পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি বোর্ডের গেজেট উপনির্বাচনের ফলেই বিরোধীদের জনপ্রিয়তা কমার প্রমাণ মিলেছে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সৌদির তেলাঞ্চল ও মদিনা লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা প্রেমের ব্যর্থতা থেকে ইয়াবা কারখানা, বাড়িতেই মাদক উৎপাদন! নয়টি গুলির দাবি ভুয়া, হাসিনাসহ ৮৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ পুলিশের ছয় কর্মকর্তার কর্মস্থলে রদবদল, দায়িত্ব হস্তান্তরের সময়সীমা নির্ধারণ পাসের হারে ছাত্রীদের বড় ব্যবধান, জিপিএ-৫-এ এগিয়ে ছাত্ররা এইচএসসির ফলে হতাশ শিক্ষামন্ত্রী, উন্নয়নে নতুন উদ্যোগ গণভোটের রায় না মানলে সরকারকে বিদায় নিতে হবে: গোলাম পরওয়ার মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে মিরপুরে ফের শ্রমিক বিক্ষোভ, স্থবির যান চলাচল

রবিবারই আসছে পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি বোর্ডের গেজেট

newsline24 / ১১ Time View
Update : শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
রবিবারই আসছে পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি বোর্ডের গেজেট
রবিবারই আসছে পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি বোর্ডের গেজেট

তৈরি পোশাকশ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের গেজেট আগামীকাল রবিবার (১ নভেম্বর) প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। একই সঙ্গে চলমান আন্দোলন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে সরে এসে শ্রমিকদের নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ নিরসন এবং কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করার প্রত্যাশা করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) শ্রম ভবনে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ)-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন শ্রমমন্ত্রী। বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের গেজেট প্রকাশের সিদ্ধান্তের কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়ে শুক্রবার শ্রমিকনেতাদের সঙ্গে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে আলোচনা হয়েছে। ওই আলোচনায় শ্রমিকদের দাবি, বোর্ডের কাঠামো এবং প্রতিনিধিত্বের বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়। আলোচনা থেকে পাওয়া সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই রবিবার গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

আরিফুল হক চৌধুরী জানান, নতুন মজুরি বোর্ডে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিদের মনোনীত সদস্যদের তালিকা সরকারের হাতে পৌঁছেছে। একইভাবে মালিকপক্ষও তাদের প্রতিনিধি মনোনয়ন দিয়েছে। ফলে বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।

নতুন মজুরি বোর্ডের মেয়াদ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রচলিত পাঁচ বছরের পরিবর্তে বোর্ডের মেয়াদ তিন বছর নির্ধারণের বিষয়ে মালিকপক্ষ সম্মতি দিয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়ে বোর্ড গঠনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম এগিয়ে যাবে।

শ্রমমন্ত্রী বলেন, নতুন মজুরি বোর্ড গঠন পোশাকশ্রমিকদের অন্যতম প্রধান দাবি। সরকার সেই দাবি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিয়েছে। এ অবস্থায় শ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত না রেখে কাজে ফিরে যাওয়া উচিত। আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের সমস্যার সমাধান করার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি মনে করেন।

এদিকে, বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকদের বেতন ও অন্যান্য পাওনা বকেয়া থাকার বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। যেসব কারখানা এখনো শ্রমিকদের প্রাপ্য বেতন-ভাতা পরিশোধ করেনি, সেগুলোতে দ্রুত পাওনা পরিশোধ নিশ্চিত করতে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। শ্রমিকদের আর্থিক অনিশ্চয়তা দূর করতে বকেয়া পরিশোধের বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কারখানার মালিকদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শ্রমমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের উত্থাপিত দাবিগুলোর বিষয়ে মালিকপক্ষের আপত্তি নেই। তবে কারখানা দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রপ্তানি কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব না হলে বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে রপ্তানির অর্থ পেতে বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে কারখানাগুলোর আর্থিক প্রবাহে চাপ তৈরি হতে পারে এবং শ্রমিকদের নিয়মিত বেতন পরিশোধও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী দাবি করেন, এসব কর্মসূচিতে প্রকৃত কারখানার শ্রমিকেরা জড়িত নন। তার অভিযোগ, বাইরে থেকে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়নি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে শ্রমমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে চায়। শ্রমিক, মালিক কিংবা অন্য কোনো পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করাই সরকারের অগ্রাধিকার। কোনো পক্ষকেই পরিস্থিতি সংঘাতের দিকে ঠেলে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।

পোশাকশিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত। এ শিল্পের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের জীবিকা যেমন জড়িত, তেমনি দেশের রপ্তানি আয় ও বৈদেশিক বাণিজ্যের একটি বড় অংশও নির্ভর করে তৈরি পোশাক খাতের ওপর। তাই শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করা এবং কারখানায় উৎপাদন অব্যাহত রাখা—দুই বিষয়ই শিল্পটির স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সাম্প্রতিক শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্তকে তাই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বোর্ড গঠনের পাশাপাশি শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ, কর্মক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং শ্রমিক-মালিকের মধ্যে আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার বিষয়গুলোও সমান গুরুত্ব পাচ্ছে।

শ্রমমন্ত্রীর প্রত্যাশা, মজুরি বোর্ড গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং বকেয়া পাওনা পরিশোধের উদ্যোগের ফলে শ্রমিকদের মধ্যে বিরাজমান অসন্তোষ কমবে। একই সঙ্গে শ্রমিকেরা কাজে ফিরে গেলে কারখানাগুলোতে উৎপাদন স্বাভাবিক হবে এবং রপ্তানি কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি কমবে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং আলোচনার ধারাবাহিকতার ওপর।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category