২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে হতাশাজনক চিত্র উঠে এসেছে। এ বছর বোর্ডটিতে পাসের হার নেমে এসেছে ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশে। জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ৯৫০ জন শিক্ষার্থী। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বোর্ডের অধীন ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক শরীফ মোর্শেদ রেজা।
ফলাফল প্রকাশের সময় তিনি জানান, যথাযথ পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এবারের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁর মতে, প্রকাশিত ফলাফলে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধার প্রতিফলন ঘটেছে।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় বিভাগের ছয় জেলার ৩৫০টি কলেজ থেকে মোট ৫৭ হাজার ৯১২ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ২৬ হাজার ৭৫৫ জন ছাত্র এবং ৩১ হাজার ১৫৭ জন ছাত্রী। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন মোট ২৫ হাজার ৯৭০ জন।
ফলাফলের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, এবার অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের অর্ধেকেরও বেশি অনুত্তীর্ণ হয়েছেন। পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে নেমে আসায় বোর্ডটির সামগ্রিক ফলাফল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস না করার বিষয়টি শিক্ষা কার্যক্রমের মান ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
গত বছরের ফলাফলের সঙ্গে তুলনা করলে পরিস্থিতির অবনতি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০২৫ সালে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। ওই বছর জিপিএ-৫ অর্জন করেছিলেন ১ হাজার ৬৭৪ জন শিক্ষার্থী।
অন্যদিকে, চলতি বছর পাসের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশে। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ পয়েন্ট। একই সময়ে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও ৭২৪ জন কমেছে। গত বছরের তুলনায় এবার সর্বোচ্চ ফল অর্জনকারীর সংখ্যায়ও উল্লেখযোগ্য পতন ঘটেছে।
শিক্ষাবিদদের কাছে এ ধরনের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনার দাবি রাখে। কারণ, একটি শিক্ষা বোর্ডের সামগ্রিক ফলাফল শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করে না; এর সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদানের পরিবেশ, শিক্ষকদের পাঠদান পদ্ধতি, নিয়মিত মূল্যায়ন এবং পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয়গুলোও জড়িত।
বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি, সেসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। কোথায় শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়েছেন, পাঠদানে কী ধরনের ঘাটতি রয়েছে এবং পরীক্ষার আগে প্রস্তুতির ক্ষেত্রে কী সমস্যা ছিল—এসব বিষয় চিহ্নিত করা গেলে ভবিষ্যতে ফলাফল উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়েছে। পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুই সূচকেই অবনতি এবং ১১টি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনা বোর্ডের শিক্ষার মান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।