২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে আলেক খান নামে এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত শুনানি শেষে পুলিশের আবেদন মঞ্জুর করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।
আবুল কালাম আজাদ রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। সোমবার তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পুলিশের পক্ষ থেকে এ আবেদন করা হয়েছে বলে আদালতকে জানানো হয়।
শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারা ফারজানা হক পুলিশের আবেদন গ্রহণ করেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, এ মামলায় আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন আলেক খান। ওই সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পরে চিকিৎসা নেওয়ার পর ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি তিনি যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।
মামলাটিতে আলেক খানকে গুলি করার ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। ওই ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তবে আবুল কালাম আজাদকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর অর্থ এই নয় যে, অভিযোগের সত্যতা ইতোমধ্যে আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।
জুলাই আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও হতাহতের ঘটনা নিয়ে একাধিক মামলা হয়েছে। এসব মামলায় অভিযোগের ধরন অনুযায়ী তদন্ত ও আদালতের কার্যক্রম চলছে। যাত্রাবাড়ীর এ মামলায় আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার দেখানোর মধ্য দিয়ে তদন্তের আওতায় তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।