সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে একই দিনে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে ছেলে সাইফুল সরকার (৫৯) মারা যান। দুপুরে তাঁর মরদেহ দাফনের জন্য কবরস্থানে নেওয়ার পরপরই মারা যান তাঁর মা তারা বানু (৯০)। পরে একই কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয় মা ও ছেলেকে। মর্মান্তিক এ ঘটনায় পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সলঙ্গা থানার ধুবিল ইউনিয়নের বেতুয়া গ্রামের দক্ষিণপাড়ায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে বেতুয়া গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদ সরকারের দ্বিতীয় ছেলে সাইফুল সরকার মারা যান। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম শুরু হয়।
সাইফুলের মৃত্যুর পর তাঁর জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। দুপুর ১টার দিকে স্বজনেরা তাঁর মরদেহ বাড়ি থেকে স্থানীয় বেতুয়া দক্ষিণপাড়া কবরস্থানে নিয়ে যান। এর কিছুক্ষণ পর, দুপুর সোয়া ১টার দিকে মারা যান তাঁর মা তারা বানু। ছেলের মৃত্যুর শোক সইতে না পেরেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছেন পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা। তবে মায়ের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরিবারের জন্য ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সকালে ছেলেকে হারানোর শোক সামলাতে না সামলাতেই দুপুরে মাকে হারাতে হয় স্বজনদের। একই দিনে পরিবারের দুই সদস্যের মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে পড়েন আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা। মা ও ছেলের এমন আকস্মিক প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যেও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়।
ধুবিল ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সানোয়ার হোসেন মা ও ছেলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বেতুয়া দক্ষিণপাড়া কবরস্থানে তাঁদের পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম আলী বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা বানু বার্ধক্যজনিত কারণে দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী ছিলেন। ছেলের আকস্মিক মৃত্যুর পর তিনি ভেঙে পড়েন। এরপর তিনিও মারা যান।
একই দিনে মা ও ছেলের মৃত্যুতে বেতুয়া গ্রামজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। স্বজনদের কাছে দিনটি হয়ে উঠেছে একসঙ্গে দুই প্রিয়জনকে হারানোর বেদনার স্মৃতি।