নরসিংদীর মাধবদীতে পরকীয়া সম্পর্ক নিয়ে বিরোধের জেরে রেহানা বেগম (৩৮) নামে এক নারীকে মাথায় আঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ৬টার দিকে সদর উপজেলার মহিষাসুরা ইউনিয়নের হামটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জসিম উদ্দিনের সঙ্গে অন্য এক নারীর সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। পাশাপাশি জসিম উদ্দিন বেশ কিছুদিন ধরে বেকার থাকায় সংসারের খরচ বহন করা নিয়েও তাঁদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। পারিবারিক এসব বিষয় নিয়ে তাঁদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি চলছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে দম্পতির দুই মেয়ে মক্তবে পড়তে গেলে বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী একা ছিলেন। এ সময় পরকীয়া সম্পর্কসহ পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জসিম উদ্দিন তাঁর স্ত্রী রেহানা বেগমের মাথায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার পর জসিম উদ্দিন বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। তাঁকে গ্রেপ্তার করা যায়নি বলে জানা গেছে। তবে এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
স্থানীয় ছাত্রদল নেতা মাজহারুল ইসলাম প্রিন্স বলেন, ওই পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। শান্তিপ্রিয় এলাকায় এ ধরনের হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, জসিম উদ্দিনের সঙ্গে অন্য এক নারীর সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মাঝেমধ্যে ঝামেলা ও কথা-কাটাকাটি হতো। মঙ্গলবার সকালে মেয়েরা মক্তবে যাওয়ার পর তাঁদের মধ্যে আবারও কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জসিম উদ্দিন তাঁর স্ত্রীর মাথায় আঘাত করলে রেহানা বেগমের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। পারিবারিক বিরোধের জেরে একজন নারীর এমন মৃত্যু স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। অভিযুক্ত স্বামীকে আইনের আওতায় আনা এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।