হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে হত্যা মামলার আসামি জাকির মিয়া (৪৫) পুলিশের হাত থেকে হ্যান্ডকাফসহ পালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে উপজেলা সদরের ৩ নম্বর দক্ষিণ-পূর্ব ইউনিয়নের বানেশ্বর বিশ্বাসের পাড়া মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। তবে পুলিশের দাবি, জাকিরকে আটক করে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়নি; পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পালিয়ে যান।
জাকির মিয়া ওই এলাকার মৃত রহমান মিয়ার ছেলে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর হাওরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় তাঁকে আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের হামলায় তোফাজ্জুল মিয়া (৩০) গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তোফাজ্জুল বানিয়াচং উপজেলার ৩ নম্বর দক্ষিণ-পূর্ব ইউনিয়নের ঠাকুরাইন দিঘির পূর্ব পাড় এলাকার মৃত মতিবুর রহমানের ছেলে। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় বানিয়াচং থানায় হত্যা মামলা করা হয়।
মামলার সূত্র ধরে সোমবার রাতে জাকির মিয়াকে গ্রেপ্তার করতে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় তাঁকে আটক করে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়েছিল বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. ছামির আলী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে জাকির হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় পুলিশের হাত থেকে পালিয়ে যান।
ছামির আলী বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জাকির জড়িত নন এবং তাঁকে অন্যায়ভাবে মামলায় আসামি করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তা সত্ত্বেও পুলিশ তাঁকে ধরতে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় জাকিরকে গ্রেপ্তার করে হ্যান্ডকাফ পরানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।
ছামির আলী আরও জানান, পরে তিনি হ্যান্ডকাফটি উদ্ধার করে বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজমুল হকের কাছে হস্তান্তর করেন।
তবে হ্যান্ডকাফসহ আসামি পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি শেখ নাজমুল হক। তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। জাকির মিয়াকে ধরতে গেলে তিনি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান। তাঁকে আটক করে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়নি বলেও দাবি করেন ওসি।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও পুলিশের বক্তব্যে স্পষ্ট ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। এক পক্ষের দাবি, জাকিরকে আটক করে হ্যান্ডকাফ পরানোর পর তিনি পালিয়ে যান; অন্যদিকে পুলিশের বক্তব্য, তাঁকে আটক করার আগেই তিনি পালিয়ে যান। ফলে অভিযানের সময় ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে দুই ধরনের বক্তব্য সামনে এসেছে।