মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করেন। এর আগে গত ৭ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল। আইনি পরিভাষায় এ অবস্থাকে ‘সিএভি’ (কেস আন্ডার অ্যাডভাইজমেন্ট) বলা হয়। অর্থাৎ, শুনানি ও উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত রায়ের জন্য প্রস্তুতি নেন।
মাহবুবউল আলম হানিফ ছাড়াও এ মামলার অন্য তিন আসামি হলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী এবং কুষ্টিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান। প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, চার আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
মামলাটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় সংঘটিত সহিংসতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দায়ের করা হয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি, ওই সময়ে কুষ্টিয়া শহরে ছয়জনকে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার নির্দেশ দেওয়া এবং হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়ার অভিযোগও উঠে এসেছে।
রাষ্ট্রপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় আসামিদের ভূমিকা, তাঁদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অবস্থান এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়গুলো মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় গুরুত্ব পেয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন ট্রাইব্যুনাল।
মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে দায়িত্ব পালনকারী প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম জানিয়েছেন, শুনানি চলাকালে অতিরিক্ত কিছু প্রমাণপত্র দাখিল করা হয়েছিল। সেসব নথি নিয়ে যুক্তিতর্কও শেষ হয়েছে। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে মাহবুবউল আলম হানিফসহ চার আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চাওয়া হয়েছে।
প্রসিকিউটর তামীমের বক্তব্য অনুযায়ী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলন দমনে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, তৎকালীন সরকারের অংশ এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে হানিফ সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অধীনস্থদের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ এসব অভিযোগের দায় নির্ধারণের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছে।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আরও যুক্তি দেওয়া হয়েছে, একই ধরনের অপরাধের ঘটনায় এর আগে আওয়ামী লীগের অন্য কয়েকজন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দণ্ডাদেশ দিয়েছেন। সেই নজির উল্লেখ করে এ মামলাতেও হানিফসহ চার আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি প্রাপ্য বলে দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
তবে রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ ও শাস্তির আবেদনই মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা, উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং প্রযোজ্য আইনের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল রায় দেবেন। বৃহস্পতিবার নির্ধারিত দিনে রায় ঘোষণা করা হলে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় সম্পন্ন হবে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনায় দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে এ মামলার রায় তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা, নির্দেশদানের অভিযোগ এবং মাঠপর্যায়ে সংঘটিত অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়গুলো রায়ে কীভাবে মূল্যায়িত হয়, সেদিকে নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।