লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় চুরি মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে আসামিপক্ষের লোকজনের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁদের হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) উপজেলার নওদাবাস ইউনিয়নের পূর্ব নওদাবাস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন হাতীবান্ধা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলন চন্দ্র বর্মন ও পুলিশ সদস্য সুজন চন্দ্র।
পুলিশ ও মামলার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পূর্ব নওদাবাস এলাকার বাসিন্দা জাকিরুলের দুটি ছাগল চুরি হয়। ঘটনার পর তিনি থানায় অভিযোগ করেন। পরে চুরি যাওয়া ছাগল উদ্ধারের বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পাওয়া যায়। মামলার বাদীর দাবি, ওই ফুটেজে ফিরোজ নামের এক ব্যক্তিকে ছাগল দুটি নিয়ে যেতে দেখা যায়।
এরপর চুরি মামলার আসামি ফিরোজকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালায় হাতীবান্ধা থানা-পুলিশ। শুক্রবার পূর্ব নওদাবাস এলাকায় পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করলে আসামিপক্ষের কয়েকজন লোক পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, আসামিপক্ষের লোকজন পুলিশ সদস্যদের মোটরসাইকেলসহ পুকুরে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ধস্তাধস্তির মধ্যে পড়ে গিয়ে এসআই আলন চন্দ্র বর্মন ও সুজন চন্দ্র আহত হন।
পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে চুরি মামলার আসামি ফিরোজকে আটক করে। আহত দুই পুলিশ সদস্যকে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান সরকার বলেন, আসামিকে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় দুই পুলিশ সদস্য পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন। তাঁদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ওসি আরও জানান, চুরি মামলার আসামি ফিরোজকে আটক করার পর আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একটি চুরি মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে আসামিপক্ষের লোকজনের এমন সংঘর্ষের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।