ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছেন বলে দেশটির একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এক দিনের এই সফরে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২, কান, হারেৎজ এবং দ্য জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে নেতানিয়াহুর আমিরাত সফর ও বৈঠকের তথ্য উঠে এসেছে। তবে সফরটি নিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। ফলে বৈঠকে কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সে সম্পর্কে প্রকাশ্যে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
নেতানিয়াহুর এই সফরের সময়টিও বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী সামরিক তৎপরতাকে কেন্দ্র করে যখন আঞ্চলিক উত্তেজনা তীব্র, ঠিক তখনই আমিরাতের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কথিত বৈঠকের খবর সামনে এলো।
ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয় ২০২০ সালে। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের মধ্যস্থতায় দুই দেশ আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আওতায় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তিতে পৌঁছায়। এর মাধ্যমে আরব বিশ্বের কয়েকটি দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একটি নতুন কূটনৈতিক অধ্যায় শুরু হয়।
আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের পর ইসরায়েল ও আমিরাতের মধ্যে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে যোগাযোগ বাড়লেও গাজা যুদ্ধ এবং ইসরায়েলের আঞ্চলিক সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আরব বিশ্বে ব্যাপক উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জন্য নতুন নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক চাপ তৈরি করেছে।
এই পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর আমিরাত সফরের খবরকে আঞ্চলিক কূটনীতির দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও বৈঠকের আলোচ্যসূচি বা কোনো সমঝোতার বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি যোগাযোগ চলমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনাকে সামনে আনছে।
তবে সফরটি নিয়ে এখন পর্যন্ত যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, তার মূল ভিত্তি ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন। নেতানিয়াহুর দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার না করায় সফরের বিস্তারিত নিয়ে আরও তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।