ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের হাজতখানায় মাদক ধ্বংস শাখার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য মো. রেজাউল করিমের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম শুনানি শেষে রিমান্ডের এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্র ও ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগ জানায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সূত্রাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন কুমার চ্যাটার্জি রেজাউল করিমকে আদালতে হাজির করেন। মামলার তদন্তের স্বার্থে তাকে তিন দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন তিনি।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, রেজাউল করিম একজন পুলিশ সদস্য এবং বর্তমানে সিএমএম আদালতের মালখানা শাখায় কর্মরত। তাকে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি সন্তোষজনক কোনো তথ্য দিতে পারেননি বলে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের অভিযোগ, রেজাউল করিম দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে মামলার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও রিমান্ড আবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে ইয়াবাগুলোর মূল সরবরাহকারী কোথা থেকে মাদক আসত এবং এর সম্ভাব্য গন্তব্য কোথায়—এসব বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট তথ্য দেননি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্ত কর্মকর্তার মতে, ইয়াবার মূল উৎস, সরবরাহব্যবস্থা এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে রেজাউল করিমকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এ কারণেই তিন দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিআইডি ঢাকা মেট্রো-দক্ষিণের একটি বিশেষ অভিযানকারী দল সূত্রাপুর থানার ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের ‘বিসমিল্লাহ বিরানি ঘর’ নামের একটি দোকানে অভিযান চালায়।
অভিযানের সময় সেখান থেকে কৌশলে পালানোর চেষ্টা করলে রেজাউল করিমকে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে পরিহিত প্যান্টের পকেট থেকে ১৭৯ গ্রাম ওজনের ১ হাজার ৭৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের হিসাবে, উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক অবৈধ বাজারমূল্য ৫ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। একই সময় তার কাছ থেকে মাদক বিক্রির নগদ ৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং একটি ভিভো স্মার্টফোনও জব্দ করা হয়।
ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগ জানিয়েছে, রেজাউল করিমকে ওই রাতেই সূত্রাপুর থানা এলাকায় আটক করা হয়। পরে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় ডিএমপির পরিদর্শক মো. কামরুজ্জামান বাদী হয়ে সূত্রাপুর থানায় মামলা করেন।
মামলাটি এখন তদন্তাধীন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে উদ্ধার করা ইয়াবার উৎস, সরবরাহকারী এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, সে বিষয়ে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করবে তদন্তকারী সংস্থা।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, পুলিশ সদস্য রেজাউল করিমকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।