‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর জুম সভায় অংশ নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উৎখাত এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি আবারও পিছিয়েছে। আগামী ১৫ অক্টোবর এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলাটির অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট বিচারক মঈন উদ্দিন চৌধুরী অনুপস্থিত থাকায় নির্ধারিত সময়ে শুনানি হয়নি। পরে ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোসাদ্দেক মিনহাজ নতুন তারিখ ঘোষণা করেন। বিষয়টি আদালতের বেঞ্চ সহকারী গোলাম নবী ও আসামিপক্ষের আইনজীবীর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে গত ১৪ জুলাই মামলাটির অভিযোগ গঠন নিয়ে শুনানি হয়। সেদিন রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ গঠনের পক্ষে বক্তব্য দেয়। অন্যদিকে কয়েকজন আসামির পক্ষে আইনজীবীরা অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন। আসামিপক্ষের শুনানি শেষ না হওয়ায় ৩০ সেপ্টেম্বর পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন আদালত।
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ নামে একটি গ্রুপের জুম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মোট ৫৭৭ জন অংশ নেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ড. রাব্বী আলমের হোস্টিংয়ে অনুষ্ঠিত ওই সভায় শেখ হাসিনাসহ অংশগ্রহণকারীদের কথোপকথন ও ভয়েস রেকর্ড পর্যালোচনা করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, সভায় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারকে শান্তিপূর্ণভাবে দেশ পরিচালনা করতে না দেওয়া এবং সরকার উৎখাতের জন্য গৃহযুদ্ধের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ওই অনলাইন সভায় শেখ হাসিনাকে আবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা হয় এবং তার নির্দেশনা অনুসরণ করার কথা জানান অংশগ্রহণকারীরা। এসব বক্তব্য ও আলোচনার ভিত্তিতেই রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
তবে এগুলো মামলার অভিযোগ ও তদন্তসংশ্লিষ্ট নথিতে উত্থাপিত বক্তব্য। আদালতে বিচার শেষে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলাটি করেন। পরে তদন্তে আসামির সংখ্যা বেড়ে ২৮৬ জনে দাঁড়ায়।
তদন্ত শেষে শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরবর্তী সময়ে আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়।
মামলার আগের শুনানির সময় বাসসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২৮৬ আসামির মধ্যে ২৫৯ জন পলাতক এবং ২৭ জন কারাগারে ছিলেন। পরবর্তী আদালত কার্যক্রমে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।
বুধবার মামলায় কারাগারে থাকা আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। তাদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিনও ছিলেন।
আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় তিনি আওয়ামী লীগ করার কারণে তাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে কোনো হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন বলেও বক্তব্য দেন। তার এই বক্তব্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
মামলাটি বর্তমানে অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে রয়েছে। ১৫ অক্টোবর আদালতে অবশিষ্ট শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। অভিযোগ গঠন হবে কি না, সে বিষয়ে শুনানি শেষে আদালত পরবর্তী আদেশ দেবেন।
রাষ্ট্রদ্রোহের মতো গুরুতর অভিযোগে করা এই মামলায় অভিযোগপত্রে ২৮৬ জনের নাম রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। ফলে আদালতের পরবর্তী আদেশ ও বিচারিক কার্যক্রমের ওপরই মামলার পরবর্তী গতি নির্ভর করবে।
তথ্যসূত্র: আদালতসংশ্লিষ্ট তথ্য এবং প্রকাশিত প্রতিবেদন—ঢাকা পোস্ট, জাগো নিউজ, বিডিনিউজ২৪ ও বাসস।