• রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫০ পূর্বাহ্ন

শিবিরকর্মীর অশালীন মন্তব্য নারী শিক্ষার্থী ও অধ্যক্ষকে নিয়ে, শিক্ষার্থীকে পুলিশের হেফাজতে

newsline24 / ৫০ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শিবিরকর্মীর অশালীন মন্তব্য নারী শিক্ষার্থী ও অধ্যক্ষকে নিয়ে, শিক্ষার্থীকে পুলিশের হেফাজতে
শিবিরকর্মীর অশালীন মন্তব্য নারী শিক্ষার্থী ও অধ্যক্ষকে নিয়ে, শিক্ষার্থীকে পুলিশের হেফাজতে

ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের নারী শিক্ষার্থী ও অধ্যক্ষকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অশালীন মন্তব্য করে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মোরশেদ আলম আদিব নামে ওই শিক্ষার্থীকে পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রতিষ্ঠানটির ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের তৃতীয় পর্বের শিক্ষার্থী এবং ফেনী পলিটেকনিক শাখা শিবিরের সক্রিয় কর্মী বলে জানা গেছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মোরশেদ আলম তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে ইনস্টিটিউটের নারী ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করে একটি পোস্ট দেন। একই পোস্টে কলেজের অধ্যক্ষকে নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

পোস্টটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের নজরে আসার পর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা তৈরি হয়। শিক্ষার্থীরা হোস্টেল থেকে মোরশেদ আলমকে আটক করে কলেজ প্রশাসনকে বিষয়টি জানান। পরে প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষক ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন এবং অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেন।

কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় মোরশেদ আলম অভিযোগের দায় স্বীকার করেন এবং এ ঘটনায় সবার কাছে ক্ষমা চান। এরপর তাঁকে পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হয়।

ঘটনার বিষয়ে ফেনী পলিটেকনিক ছাত্রদলের আহ্বায়ক রুবেল মোঘল বলেন, ঘটনার সময় তিনি ক্যাম্পাসের বাইরে ছিলেন। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি দ্রুত ক্যাম্পাসে আসেন এবং শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে কলেজের শিক্ষকদের বিষয়টি জানানো হলে তাঁরা ঘটনাস্থলে এসে পুলিশকে খবর দেন।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর সহপাঠী মুশফিকুর রহমান বলেন, মোরশেদ আলম তাঁদের সহপাঠী। নারী সহপাঠীদের নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বহিষ্কারের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের উপাধ্যক্ষ রূপক কান্তি বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তাঁদেরই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ফেসবুকে নারী শিক্ষার্থী ও কলেজ অধ্যক্ষকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করে পোস্ট দেওয়ার বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলার পরিপন্থী।

উপাধ্যক্ষ আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদে ওই শিক্ষার্থী অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করেছেন এবং ক্ষমা চেয়েছেন। তবে তাঁর ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে এ ঘটনায় আপাতত কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা এলে তাঁকে তাঁদের জিম্মায় দেওয়ার কথা রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে।

এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও পরবর্তী পদক্ষেপের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। উপাধ্যক্ষ জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকালে কলেজ প্রশাসনের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই সভায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কী ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে আপত্তিকর বা অশালীন মন্তব্যের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগ হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এখন কলেজ প্রশাসনের সভার সিদ্ধান্ত এবং পরিবারের কাছে শিক্ষার্থীকে হস্তান্তরের পরবর্তী কার্যক্রমের দিকে নজর রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category