মেহেরপুর শহরে গভীর রাতে একটি বাড়িতে ঢুকে এক তরুণীর ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। হামলায় তরুণীর ডান হাতের কবজির ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। মেয়েকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার বাবা ও মাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে অভিযুক্ত যুবক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে শহরের লর্ড মার্কেট এলাকায় ইলেকট্রনিক ব্যবসায়ী সেলিম হোসেনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আহত তিনজন হলেন সেলিম হোসেন, তার স্ত্রী রেবেকা খাতুন এবং তাদের মেয়ে স্মৃতি আক্তার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতের দিকে সায়ন নামের ওই যুবক সেলিম হোসেনের বাড়িতে প্রবেশ করেন। এরপর তিনি স্মৃতি আক্তারের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। একপর্যায়ে তার ডান হাতের কবজির ওপর থেকে কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
হামলার সময় স্মৃতির চিৎকার শুনে পাশের কক্ষ থেকে তার বাবা-মা ছুটে আসেন। মেয়েকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে হামলাকারী তাদের ওপরও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন। হামলার পর দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যান অভিযুক্ত যুবক।
স্থানীয়রা পরে আহত তিনজনকে উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।
অভিযুক্ত সায়ন শহরের মল্লিকপাড়া এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী আবু তালেবের ছেলে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র। ঘটনার পর থেকেই তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযুক্ত সায়নকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে হামলার প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনে কোনো পূর্ববিরোধ বা অন্য কোনো বিষয় ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে প্রেমঘটিত বিরোধের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা থাকলেও পুলিশ এখনো হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করেনি। ফলে অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্তের পরই ঘটনার পেছনের কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। গভীর রাতে একটি বসতবাড়িতে ঢুকে পরিবারের তিন সদস্যকে আহত করার পাশাপাশি এক তরুণীর হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে এবং অভিযুক্তকে ধরতে অভিযান চালায়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি হামলার কারণ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আহতদের চিকিৎসার বিষয়টিও পরিবারের জন্য এখন বড় উদ্বেগের হয়ে দাঁড়িয়েছে।