নওগাঁর মান্দা উপজেলায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে একটি বাড়িতে প্রবেশ করে মালামাল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (২৯ আগস্ট) উপজেলার পারুই-টুঙ্গি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা ধাওয়া করে ওই তিনজনকে আটক করার পর মান্দা থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
আটক ব্যক্তিরা হলেন বেলাল হোসেন (২৫), আমিনুল ইসলাম (৩১) ও ছহির উদ্দিন (২৯)। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁদের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার পারুই-টুঙ্গি গ্রামের বাসিন্দা সুকুমার প্রামাণিকের বাড়িতে তিন ব্যক্তি যান। তাঁরা নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। এ পরিচয় ব্যবহার করে তাঁরা বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ পরিবারের।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, বাড়িতে ঢোকার পর ওই তিন ব্যক্তি অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পরিবারের সদস্যদের আতঙ্কিত করেন। এরপর বাড়ির বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তাঁরা। বিষয়টি বুঝতে পেরে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
একপর্যায়ে ওই ব্যক্তিরা কিছু মালামাল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তখন স্থানীয় বাসিন্দাদের বিষয়টি নজরে আসে। সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয়রা তাঁদের পিছু নেন এবং ধাওয়া করে তিনজনকে আটক করেন।
আটকের পর স্থানীয়রা বিষয়টি মান্দা থানা পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরে তাঁদের পরিচয় ও ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়।
মান্দা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলেফ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, চুরির ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের প্রাথমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও অভিযোগের বিষয়গুলো যাচাই করা হচ্ছে। বিশেষ করে আটক ব্যক্তিরা সত্যিই কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য কি না, নাকি পরিচয় ব্যবহার করে বাড়িতে প্রবেশ করেছিলেন—তদন্তে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের বাড়িতে প্রবেশের অভিযোগটি স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র বের করার চেষ্টা চলছে।
আটক তিনজনের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে। একই সঙ্গে তাঁদের সঙ্গে অন্য কেউ যুক্ত ছিলেন কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।