• শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
তৌফিক হত্যার ঘটনায় মামলা নেই, শ্রমিক আন্দোলনে ১২ মামলায় আসামি ৫ হাজার শিশুদের খেলার আগ্রহ জানলেন তারেক রহমান, দিলেন সরঞ্জামের প্রতিশ্রুতি মাদকবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় পুলিশ সদস্যের হাত-পা ভাঙল দুর্বৃত্তরা আমির হামজার বিরুদ্ধে অভিযোগ, আগে থেকেই জানতেন জামায়াত আমির: রাশেদ খাঁন মাদক কারবারিদের রাজনীতিতে থাকার অধিকার নেই: ইশরাক হবিগঞ্জে চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক সংবিধানে বিসমিল্লাহ ও আল্লাহর ওপর আস্থা ফেরানোর ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জনগণের দুর্ভোগ কমাতে দিনরাত কাজ করছে সরকার: ত্রাণমন্ত্রী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতিতে ফিরতে দেবে না জনগণ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিপ্লব ও সংহতি দিবসের শোভাযাত্রা নিয়ে যা জানালেন রিজভী

মাদক কারবারিদের রাজনীতিতে থাকার অধিকার নেই: ইশরাক

newsline24 / ৩৩ Time View
Update : শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬
মাদক কারবারিদের রাজনীতিতে থাকার অধিকার নেই ইশরাক
মাদক কারবারিদের রাজনীতিতে থাকার অধিকার নেই ইশরাক

মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তির রাজনীতি করার অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তিনি বলেছেন, মাদক ব্যবসার পেছনে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে কেউ মাদক কারবার চালালে তার মুখোশ উন্মোচন করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের অভিযান ও প্রতিরোধ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। দেশের বিভিন্ন মাদকপ্রবণ এলাকায় ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের পরিচয় ব্যবহার করে একটি অসাধু চক্র মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে। রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় পাওয়ার কারণে অনেক মাদক কারবারি নির্বিঘ্নে তাদের কার্যক্রম চালানোর সুযোগ পাচ্ছে। এ ধরনের অপতৎপরতা বন্ধে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

তিনি আরও বলেন, সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা কৌশলে মাদক দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে। পরে সেগুলো ছড়িয়ে পড়ছে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত। মাদক পরিবহনে কয়েকটি পরিচিত পরিবহনের সম্পৃক্ততার কথাও শোনা যাচ্ছে। পাশাপাশি কিছু ভুঁইফোড় ওষুধ কোম্পানির বিরুদ্ধেও মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন।

ইশরাকের ভাষ্য, একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে দেশের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে মাদক ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক তৎপরতা এবং সামাজিক সচেতনতা একসঙ্গে বাড়াতে হবে।

মাদকাসক্তির সঙ্গে অপরাধের সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি বলেন, মাদকের প্রভাবে কেউ কেউ ভয়াবহ ও নৃশংস অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড এবং বহুল আলোচিত ঐশীর ঘটনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাদকের ভয়াবহ পরিণতি ব্যক্তি ও পরিবারের গণ্ডি ছাড়িয়ে পুরো সমাজের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। তাই মাদক প্রতিরোধকে শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না; এটি একটি সামাজিক ও জাতীয় সমস্যা। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। তিনি বলেন, দেশে মাদকের সহজলভ্যতা এর বিস্তারের অন্যতম বড় কারণ। গাঁজা, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক এখন তুলনামূলক সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। একসময় শহরকেন্দ্রিক বলে বিবেচিত ইয়াবার বিস্তার এখন গ্রামগঞ্জ ও পাড়া-মহল্লা পর্যন্ত পৌঁছেছে। এমনকি অনলাইনে অর্ডার করলেও বাসায় মাদক পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, মাদক ও অপরাধের মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে। মাদক কারবারিরা রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে নিজেদের পরিচয় পরিবর্তন করে বিভিন্ন দলের নাম ব্যবহার করে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে। অপরাধীদের কোনো স্থায়ী রাজনৈতিক পরিচয় নেই। তাই রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যেন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে ছাড় না পায়, সে বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে। সরকার মাদক নিয়ন্ত্রণে শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করেছে। এই নীতির বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

মাদকবিরোধী অভিযানের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, অভিযানে অনেক সময় মাদকসেবী, বহনকারী ও ছোট পর্যায়ের বিক্রেতারা গ্রেপ্তার হলেও ব্যবসার মূল নিয়ন্ত্রক ও অর্থের জোগানদাতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। ফলে একই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মাদক সরবরাহ অব্যাহত থাকে। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে শুধু খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করলেই হবে না, সরবরাহব্যবস্থা ও এর পেছনে থাকা মূল হোতাদের শনাক্ত করতে হবে।

তিনি আরও জানান, মাদক পরিবহনে অপরাধীরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করছে। কখনো দোকান কিংবা ভ্রাম্যমাণ দোকানের আড়ালে, কখনো ব্যক্তির শরীরে, আবার কখনো যাত্রীবাহী যানবাহনের গোপন চেম্বারে মাদক বহন করা হচ্ছে। এমনকি পাকস্থলী ও মুঠোফোনের ব্যাটারির ভেতরের জায়গা ব্যবহার করেও ইয়াবা পাচারের ঘটনা ঘটছে। এসব কৌশল মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি, গোয়েন্দা সক্ষমতা এবং প্রযুক্তির ব্যবহার আরও কার্যকর করা প্রয়োজন।

হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, শুধু সরকার কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একক প্রচেষ্টায় মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এর জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা না গেলে দীর্ঘমেয়াদে এ সমস্যা মোকাবিলা কঠিন হবে।

সেমিনারে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ এবং মনোরোগবিদ্যার অধ্যাপক ডা. এম এ মোহিত কামাল। তাঁরা মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন একাত্তর টেলিভিশনের বার্তাপ্রধান শাহ আজিজুর রহমান কিরণ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি মো. মুন্না হুসাইন এবং ইডেন মহিলা কলেজ বিতর্ক দলের দলনেতা মাসনুন নাবিলা আলম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাবেক জাতীয় বিতার্কিক মো. কাউছার আলম।

‘মাদককে না বলি, মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ি’ স্লোগানে আয়োজিত এ সেমিনারে সহযোগিতা করে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ডিবেটিং সোসাইটি ও ইডেন মহিলা কলেজ ডিবেটিং ক্লাব।

সেমিনারে বক্তাদের আলোচনায় উঠে আসে, মাদক নিয়ন্ত্রণে বিচ্ছিন্ন অভিযান বা সাময়িক তৎপরতার পরিবর্তে প্রয়োজন অপরাধের মূল নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত আইন প্রয়োগ, সীমান্তে নজরদারি, মাদক সরবরাহের উৎস শনাক্ত এবং তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করার উদ্যোগ সমান গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়ন করতে হবে। মাদকবিরোধী লড়াইকে কার্যকর করতে হলে অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় নয়, অপরাধের প্রমাণই যেন বিচারের প্রধান ভিত্তি হয়—এমন প্রত্যাশাও উঠে আসে আলোচনায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category