হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে টিয়ার শেল ও ফাঁকা গুলি নিক্ষেপ করতে হয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার রাজিউড়া ইউনিয়নের জয়রামপুর গ্রাম এবং নিজামপুর ইউনিয়নের নিতাইরচক গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে প্রথমে বিরোধ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি থেকে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে দুই গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
শুরুতে সীমিত পরিসরে উত্তেজনা দেখা দিলেও পরে তা ব্যাপক সংঘর্ষে রূপ নেয়। উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলতে থাকে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা এতটাই বেড়ে যায় যে, স্থানীয়ভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি শান্ত করতে স্থানীয় মুরুব্বিরা একাধিকবার উদ্যোগ নেন। তারা দুই পক্ষকে সংঘর্ষ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেন। তবে তাদের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)সহ পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ প্রথমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তবে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় একপর্যায়ে কয়েকটি টিয়ার শেল ও ফাঁকা গুলি নিক্ষেপ করা হয়।
পুলিশের হস্তক্ষেপের পর দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষ থেকে সরে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে এলাকায় উত্তেজনা কমে আসে এবং স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে।
গ্রামাঞ্চলে চুরির মতো ছোটখাটো ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে স্থানীয় বিরোধ দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তা জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে বিরোধের শুরুতেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মুরুব্বি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা জরুরি।
তবে সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের পরিচয়, তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা, চুরির ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ কিংবা এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রাথমিক তথ্যে বিস্তারিত জানা যায়নি। পুলিশের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।