বুধবার (৪ নভেম্বর) বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিয়াউর হক স্বাক্ষরিত এক আদেশে শিক্ষার্থীদের ছাড়পত্র দেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়। এ ঘটনায় বিদ্যালয়টির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ছাড়পত্র পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে দশম শ্রেণির একজন, নবম শ্রেণির সাতজন এবং অষ্টম শ্রেণির একজন রয়েছে। তারা হলেন—দশম শ্রেণির সাজিদ কাজী, নবম শ্রেণির মো. আলীরাজ, শাহজালাল মুন্সী, কাজী সাইদুল ইসলাম, শান্ত মজুমদার, শেখ আবদুল্লাহ তাসীন, রাইয়ান খান ও রিয়াজুল মুন্সী এবং অষ্টম শ্রেণির রেজাউল করিম।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ অক্টোবর স্কুল ছুটির সময় শ্রেণিকক্ষের ভেতরে ওই নয় শিক্ষার্থী ‘জয় বাংলা’সহ আওয়ামী লীগ ও দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রমকে উদ্দেশ করে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রশাসন ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপর ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে পরদিন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
তদন্ত কমিটি ঘটনার ভিডিওসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চালায়। পরে বুধবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে ওই নয় শিক্ষার্থীকে ঘটনার জন্য অভিযুক্ত করা হলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এর ধারাবাহিকতায় বিদ্যালয় থেকে তাদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
গোপালগঞ্জ সরকারি জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক জিয়াউর হক ছাড়পত্র দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শ্রেণিকক্ষের মধ্যে একটি রাজনৈতিক সংগঠন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে ‘জয় বাংলা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখার বিষয়টি বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ ধরনের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে তদন্তের স্বচ্ছতা, অভিযোগের যথাযথ মূল্যায়ন এবং প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুসরণের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পায়।
গোপালগঞ্জের এই ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন ও জেলা প্রশাসকের নির্দেশনার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে ছাড়পত্র পাওয়া শিক্ষার্থীদের বক্তব্য কিংবা তাদের অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে প্রতিবেদনে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনাটির পরবর্তী পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান নিয়ে স্থানীয়ভাবে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।