• বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
দুই মাসের মধ্যেই শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা: প্রধানমন্ত্রী শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতার চেষ্টা, অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ছুটি ৭০ কারখানায় ২৩ বছরের অধ্যায়ের ইতি, পর্তুগালের জার্সিকে বিদায় রোনালদোর শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগ, সাবেক মন্ত্রী-এমপিসহ ২০৪ হিসাব জব্দ ২০৩০ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে চায় সরকার কুর্মিটোলায় পুলিশের গাড়িতে ককটেল হামলা, আহত কনস্টেবল এইচএসসিতে অকৃতকার্যদের বিশেষ পরীক্ষা ২ ডিসেম্বর, ফল ২৩ তারিখ আদালত চত্বরে উত্তেজনা, মেজাজ হারিয়ে গালিগালাজ পরীমণির পরোয়ানা ছাড়া সাংবাদিক গ্রেপ্তার ঠেকাতে আইন করার চিন্তা সরকারের

দুই মাসের মধ্যেই শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা: প্রধানমন্ত্রী

newsline24 / ১১ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬
দুই মাসের মধ্যেই শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী
দুই মাসের মধ্যেই শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী

শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের মজুরি-সংক্রান্ত দাবি বিবেচনায় নিয়ে আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং বোর্ড কাজ শুরু করেছে। নতুন মজুরি নির্ধারণের মাধ্যমে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান কিছুটা হলেও উন্নত হবে বলে আশা করছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বাগেরহাটে আয়োজিত এক পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, জনগণের নির্বাচিত সরকার দেশের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে দিন-রাত কাজ করছে। সরকারের অন্যতম লক্ষ্য দেশে শিল্পের প্রসার ঘটানো, ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নত করা এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। এসব উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা।

শ্রমিকদের মজুরি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমিক ভাই-বোনদের পক্ষ থেকে বেশ কিছু দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। সরকার সেসব দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এ জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং এরই মধ্যে বোর্ড কার্যক্রম শুরু করেছে।

তিনি বলেন, ‘ইনশাল্লাহ আগামী দু-এক মাসের মধ্যে মজুরি বোর্ড নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করবে। যাতে করে আমাদের শ্রমিক ভাই-বোনেরা আগের তুলনায় কিছুটা হলেও ভালো থাকতে পারেন।’

এ সময় রাজধানী ঢাকার কয়েকটি এলাকায় সাম্প্রতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টার বিষয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, একটি মহল শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিকে সামনে রেখে শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। এর পেছনে সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

শ্রমিকদের আন্দোলন ও শিল্পকারখানায় হামলার বিষয়টি আলাদা করে দেখার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, কোনো প্রকৃত শ্রমজীবী মানুষ নিজের কর্মস্থল কিংবা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করতে পারেন না। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি থাকতে পারে এবং সেসব দাবি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু সেই দাবিকে ব্যবহার করে কারখানা, যন্ত্রপাতি কিংবা যানবাহনে ভাঙচুর চালানো গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দেখা গেছে, কিছু লোক কারখানায় গিয়ে ভাঙচুর চালাচ্ছে। এতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতি ও উৎপাদনব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এমন কর্মকাণ্ডের ফলে শুধু মালিকপক্ষই নয়, শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের কর্মসংস্থানও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

তিনি আরও বলেন, সরকার দেশে শিল্পের প্রসার এবং মানুষের কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। শ্রমিকদের দাবি-দাওয়ার সমাধানও সেই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে কোনো পক্ষ যেন শ্রমিকদের অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

দেশের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, সরকার বাংলাদেশকে অন্যতম শিল্পোন্নত দেশে পরিণত করতে চায়। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু একটি মহল সরকারের এসব উদ্যোগ ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের পথে বাধা সৃষ্টি এবং শিল্প খাতে অস্থিতিশীলতা তৈরির সঙ্গে জড়িতদের যথাযথ জবাব দেওয়া হবে। দেশের উন্নয়ন ও শিল্পায়নের স্বার্থে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।

বিশ্লেষণ: শ্রমিকদের নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণের উদ্যোগটি দেশের শ্রমবাজার ও শিল্প খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি নির্ধারণ করা শ্রমিকদের ক্রয়ক্ষমতা এবং জীবনমানের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নতুন মজুরির পরিমাণ কত হবে, কোন কোন খাতের শ্রমিকরা এর আওতায় আসবেন এবং কবে থেকে তা কার্যকর হবে—এসব বিষয়ে মজুরি বোর্ডের পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করতে হবে। সরকারের ঘোষিত এক থেকে দুই মাসের সময়সীমার মধ্যেই এসব বিষয়ে চূড়ান্ত চিত্র পাওয়া যেতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category