জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটে জনগণ যে রায় দেবে, তা মেনে সংবিধান সংস্কার করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। জনগণের মতামত উপেক্ষা করে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ থেকে সরে থাকলে সরকারকে জনগণের কাছেই জবাবদিহি করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবা এলাকায় পদ্মা সেতু এক্সপ্রেসওয়েতে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত এক পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদের ভিত্তিতে গণভোট হবে। জনগণ যে রায় দেবে, সেই রায় মেনে সংবিধান সংস্কার করতে হবে। জনগণের রায় উপেক্ষা করে সংবিধান সংস্কার না করলে এই জনগণই সরকারকে চিরবিদায় দিয়ে দেবে।’
গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যে সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ায় জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি উঠে আসে। তাঁর মতে, গণভোটের মাধ্যমে জনগণের সম্মতি নেওয়া হলে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করাও সরকারের দায়িত্ব। জনগণের প্রত্যাশার বিপরীতে অবস্থান নিলে রাজনৈতিকভাবে সরকারকে তার পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
পথসভায় ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভোটের গণরায় কার্যকর করা, জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ। পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হয়।
পথসভাকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকেই শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবা এলাকায় ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী সেখানে জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। এ সময় জোটের অন্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
নেতাদের বক্তব্য শেষে সংক্ষিপ্ত পথসভা শেষ করে ১১ দলীয় জোটের বহর খুলনার উদ্দেশে যাত্রা করে। এটি ছিল জোটের বৃহত্তর লংমার্চ কর্মসূচির অংশ।
উল্লেখ্য, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নসহ সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে শনিবার সকাল ৭টায় রাজধানী ঢাকা থেকে কুষ্টিয়ামুখী লংমার্চ শুরু করে ১১ দলীয় ঐক্য। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়। সমাবেশ শেষে সকাল ৮টার দিকে লংমার্চের বহর খুলনা, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করে।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে জোটের নেতারা তাঁদের সাত দফা দাবি তুলে ধরার পাশাপাশি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার এবং দেশের চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকারের ভূমিকা নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন।