২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক শিক্ষার্থীদের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন তাঁর আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফারজানা ইয়াসমিন রাখি। মোহাম্মদপুর থানার একটি হত্যা মামলার শুনানি শেষে সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে গণমাধ্যমের সামনে তিনি এ দাবি করেন।
আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি বলেন, সংশ্লিষ্ট হত্যা মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে (এফআইআর) জুনাইদ আহমেদ পলকের নাম ছিল না। তাঁর দাবি, মামলাটিতে পলক নির্দোষ এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় তিনি তাঁদের পক্ষেই ছিলেন।
আদালতে শুনানি শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে পলকের আইনজীবী এসব বক্তব্য তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, মামলার এজাহারে পলকের নাম না থাকা এবং আন্দোলনের সময় তাঁর অবস্থান নিয়ে করা দাবি।
ফারজানা ইয়াসমিন রাখির বক্তব্য অনুযায়ী, মামলার এজাহারে পলকের নাম না থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে এজাহারে কারও নাম না থাকাই যে তাঁকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়, এমন নয়। মামলার অভিযোগ, তদন্তে পাওয়া তথ্যপ্রমাণ এবং আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ ক্ষেত্রে পলকের আইনজীবী তাঁর মক্কেলের নির্দোষিতার পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। তবে মামলার অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ, তদন্তের অগ্রগতি কিংবা এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে আইনজীবীর দাবির পাশাপাশি মামলার অন্যান্য নথি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। পরে আন্দোলনটি দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং জুলাই-আগস্টে তা ব্যাপক রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতায় রূপ নেয়। ওই সময়ে সংঘটিত বিভিন্ন সহিংসতা, প্রাণহানি ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশের বিভিন্ন থানায় মামলা হয়। এসব মামলায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা ও দায় নির্ধারণের বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।
সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর মধ্যে কোন মামলায় কী অভিযোগ রয়েছে, তা পৃথকভাবে বিবেচনা করা জরুরি। মোহাম্মদপুর থানার এই হত্যা মামলায় তাঁর আইনজীবী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা তাঁর পক্ষের অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হবে। আদালতের নথি, তদন্তের তথ্য এবং অন্য পক্ষের বক্তব্য ছাড়া এ দাবিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
আইনজীবীর বক্তব্যের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি। মামলার অভিযোগের পূর্ণ বিবরণ, তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য এবং আদালতের পর্যবেক্ষণ সামনে এলে পলকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও তাঁর আইনজীবীর দাবির বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।