মঙ্গলবার যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত একটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শকের ক্রসফায়ার ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশের সর্বোচ্চ কর্মকর্তার কাছ থেকে ক্রসফায়ার ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বক্তব্য আসা উদ্বেগজনক। তাঁর মতে, এ ধরনের বক্তব্য সরকারের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
রিজভী বলেন, অপরাধ দমনের জন্য দেশে প্রচলিত আইন ও বিচারিক ব্যবস্থা রয়েছে। এসব আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করেই অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। আইন হাতে তুলে নেওয়া কিংবা আইনবহির্ভূত পদ্ধতিতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ব্যাহত হতে পারে।
তিনি মনে করেন, অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে পুলিশের দায়িত্ব হলো আইন মেনে কাজ করা এবং অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের প্রচলিত বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় আনা। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতিটি পদক্ষেপে আইনি বিধান ও নাগরিকের অধিকারকে গুরুত্ব দিতে হবে। তাঁর বক্তব্যে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও উঠে আসে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, গত ১৭ বছর ধরে গুম, খুন ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। এ কারণে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের জন্য নিরাপদ ও মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যে লক্ষ্য নিয়ে রাজনৈতিক আন্দোলন হয়েছে, তা বাস্তবায়নে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইনসম্মত ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
রিজভী আরও বলেন, অপরাধ দমনের নামে কোনো বেআইনি পদ্ধতি গ্রহণ করা উচিত নয়। বরং পুলিশের পেশাদারত্ব, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। এতে নাগরিকদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আস্থা তৈরি হবে বলেও তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
অনুষ্ঠানে যুবসমাজের দায়িত্ব ও ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন এবং মানুষের কল্যাণে যুবকদের সুসংগঠিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে কোনো ধরনের টেন্ডারবাজি বা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত হওয়া যাবে না।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যুবকদের কর্মকাণ্ড যেন সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি না করে। বরং তাদের আচরণ ও কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন, মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে যুবসমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
রিজভীর মতে, রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত তরুণদের দায়িত্বশীল আচরণ সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। মানুষের অধিকার রক্ষা, জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে অংশগ্রহণ এবং সামাজিক সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসা যুবকদের অন্যতম দায়িত্ব হওয়া উচিত।
যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত মেডিকেল ক্যাম্পের প্রসঙ্গেও মানুষের কল্যাণে সংগঠনের ভূমিকার বিষয়টি সামনে আসে। রিজভী বলেন, যুবদলকে এই ইতিবাচক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে যুবকদের গঠনমূলক ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তাঁর প্রত্যাশা, যুবসমাজ দায়িত্বশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একটি সুন্দর, নিরাপদ ও মানবিক সমাজ গঠনে অবদান রাখবে। একই সঙ্গে অপরাধ দমন থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে আইনের শাসন, মানবিক মূল্যবোধ এবং জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথাও তুলে ধরেন বিএনপির এই নেতা।