নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে গার্মেন্টসের ঝুট কাপড়ের ৩০টি গোডাউনের মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে সদর উপজেলার বিলাশনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি।
গোডাউনের মালিক ও শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতে হঠাৎ একটি গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন আশপাশের গোডাউনগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে একের পর এক গোডাউনের ঝুট কাপড়সহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে যায়। আগুনের তীব্রতায় ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের মজুত মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে যায়।
গোডাউনের মালিক ইমরান হোসেন, জহির ও সোহেল এবং সেখানে কর্মরত শ্রমিকেরা জানান, প্রতিটি গোডাউনে আনুমানিক পাঁচ থেকে ২০ লাখ টাকার ঝুট কাপড় মজুত ছিল। সব মিলিয়ে ৩০টি গোডাউনের মালামাল পুড়ে বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। তাঁদের দাবি, ক্ষতির পরিমাণ প্রায় এক কোটি টাকা। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো এ হিসাব নিশ্চিত করা হয়নি।
ব্যবসায়ীদের জন্য এ অগ্নিকাণ্ড বড় ধরনের আর্থিক ধাক্কা হয়ে এসেছে। গোডাউনের মালিকদের অনেকে ব্যাংক ও বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেন বলে জানিয়েছেন তাঁরা। আগুনে মজুত পণ্য পুড়ে যাওয়ায় তাঁদের পুঁজি হারানোর পাশাপাশি ঋণের অর্থ পরিশোধ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানান, খবর পাওয়ার পর মণ্ডলপাড়া, হাজীগঞ্জ ও শিবু মার্কেট ফায়ার স্টেশনের ছয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত গোডাউন ও মালামালের পরিমাণ যাচাই করে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব নির্ধারণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণ এবং আগুন লাগার কারণ নিশ্চিত করতে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করছেন সংশ্লিষ্টরা।