• মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
হ্যান্ডকাফ পরেও পুলিশের হাত থেকে পালালেন হত্যা মামলার আসামি ছেলের দাফনের অপেক্ষায়, কয়েক মিনিট পরই মায়ের মৃত্যু দেশের ৫০০ উপজেলায় ছড়িয়ে পড়বে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা গণপূর্তে বদলি বাণিজ্য বন্ধে ১৫৫ নির্বাহী প্রকৌশলীর ভাগ্য নির্ধারণ লটারিতে রূপপুরে ২০ হাজার যন্ত্রপাতি নিয়ে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা স্থাপন উচ্চস্বরে আজানের অভিযোগে ভারতে মুয়াজ্জিন গ্রেপ্তার, জব্দ মাইক কুষ্টিয়ায় সাহেব আলী হত্যা মামলায় ১২ জনের যাবজ্জীবন নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তা, আওয়ামী লীগকে বিচারের দাবি এনসিপির ‘জয় বাংলা, দাবিয়ে রাখা যাবে না’, আদালত থেকে বেরিয়ে আইভী ডেঙ্গু ঠেকাতে পাড়া-মহল্লায় মাইকিং, খুতবায় সচেতনতার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

তাজমিনকে ধর্ষণ-হত্যার দিনও নেশাগ্রস্ত ছিলেন সুমন

newsline24 / ২৪ Time View
Update : রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬
তাজমিনকে ধর্ষণ-হত্যার দিনও নেশাগ্রস্ত ছিলেন সুমন
তাজমিনকে ধর্ষণ-হত্যার দিনও নেশাগ্রস্ত ছিলেন সুমন

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে (১৫) ধর্ষণ ও হত্যার মামলার একমাত্র আসামি সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া (৩৫)। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে গাঁজা ও ইয়াবায় আসক্ত সুমন হত্যাকাণ্ডের দিনও নেশাগ্রস্ত ছিলেন। শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তাজমিনকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন তিনি।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার রাতে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লায় ফেরেন তাজমিন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে পদুয়ারবাজারের হোটেল নূরজাহানের সামনে একটি বাস থেকে নামেন তিনি। সেখান থেকে নগরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করেন। এর চালক ছিলেন সুমন।

পুলিশের ভাষ্য, তাজমিনকে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার পরিবর্তে নির্জন স্থানে নিয়ে যান সুমন। সেখানে তাঁকে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের পর সুমন পাশের একটি মসজিদের পুকুরে গোসল করে চট্টগ্রামের দিকে চলে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা চট্টগ্রামের অলংকার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেন। এ ঘটনায় সুমনকে একমাত্র আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়েছে।

মাদকাসক্তি নিয়ে পারিবারিক অশান্তি

সুমনের পারিবারিক জীবনেও দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল। তাঁর ভায়রা যুবায়েরের ভাষ্য অনুযায়ী, সুমনের ১৬ বছর বয়সী একটি ছেলে ও ১৪ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। মাদকাসক্তি ও নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে স্ত্রী জেসমিন সন্তানদের নিয়ে আলাদা থাকেন। সুমন শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন।

যুবায়ের জানান, শ্বশুরবাড়িতে থাকার সময় সুমন বসতঘরের আসবাবপত্রসহ একে একে বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করে দেন। বর্তমানে তিনি নিঃস্ব অবস্থায় রয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

দীর্ঘদিন অটোরিকশা চালাতেন সুমন

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় ছয় বছর ধরে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন সুমন। তাঁর বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। প্রায় ১৭ থেকে ১৮ বছর আগে বিয়ে করে ঘরজামাই হিসেবে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাগমারা ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন তিনি।

পারিবারিক বিরোধের জেরে লালমাই থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলাও রয়েছে। প্রায় এক মাস আগে পারিবারিক বিরোধের কারণে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে যান সুমন।

এক কিশোরীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যু এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পুলিশি তদন্ত ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় ঘটনার বিস্তারিত তথ্য এবং অপরাধের দায় নির্ধারিত হবে। বর্তমানে এ ঘটনায় সুমনই মামলার একমাত্র আসামি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category