ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) গাঁজাসহ দুই শিক্ষার্থীকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্রিকেট মাঠ থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের প্রক্টর কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
আটক দুই শিক্ষার্থী হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের সুফিয়ান সালাফী ও হাসানুজ্জামান। প্রক্টরিয়াল বডির জিজ্ঞাসাবাদে তারা গাঁজা সংগ্রহের বিষয়ে কিছু তথ্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আটক দুই শিক্ষার্থী সৌমিক নামের এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে গাঁজা সংগ্রহ করেছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানান। সৌমিক ফোকলোর অ্যান্ড সোশ্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তবে তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
জিজ্ঞাসাবাদে আটক শিক্ষার্থীরা আরও দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন শাহ হলের পকেট গেটসংলগ্ন এলাকার ‘গদা’ নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে তারা গাঁজা কিনেছিলেন। তবে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা জানিয়েছেন, ওই এলাকায় ‘গদা’ নামে কোনো ব্যক্তির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ফলে গাঁজা সংগ্রহের বিষয়ে তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
এ ছাড়া আটক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নাহিন ও সাদ নামের আরও দুজন শিক্ষার্থী মাঝেমধ্যে গাঁজার আসরে বসতেন বলেও জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে প্রক্টরিয়াল বডি। তবে এ বিষয়ে ওই দুই শিক্ষার্থীর সংশ্লিষ্টতা বা ভূমিকা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
আটকের পর নিজেদের ভুল স্বীকার করে ওই দুই শিক্ষার্থী বলেন, তারা অন্যায় করেছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে আর জড়াবেন না।
ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রক্টর জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে ছাত্র উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে আটক শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা ওই আলোচনার পরই স্পষ্ট হবে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্রিকেট মাঠ থেকে গাঁজাসহ দুই শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার ছাত্র উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতির সঙ্গে বসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মাদকসংক্রান্ত এমন ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ক্যাম্পাসে মাদকের ব্যবহার ও সরবরাহ ঠেকাতে প্রশাসনের নজরদারি এবং নিয়মিত তৎপরতা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথাও সামনে এসেছে।