• শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৯ অপরাহ্ন

লংমার্চে জনভোগান্তি ও জ্বালানি অপচয়ের অভিযোগ রাশেদ খাঁনের

newsline24 / ১৪ Time View
Update : শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
লংমার্চে জনভোগান্তি ও জ্বালানি অপচয়ের অভিযোগ রাশেদ খাঁনের
লংমার্চে জনভোগান্তি ও জ্বালানি অপচয়ের অভিযোগ রাশেদ খাঁনের

জামায়াত ঘোষিত লংমার্চকে কেন্দ্র করে সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হওয়া এবং বিপুল পরিমাণ জ্বালানি অপচয়ের কারণে জনভোগান্তির পাশাপাশি জ্বালানি সংকট আরও বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন। তার দাবি, লংমার্চের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সাধারণ মানুষ ও পণ্যবাহী যানবাহনের চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন রাশেদ খাঁন।

পোস্টে তিনি দাবি করেন, জামায়াতের লংমার্চে দলীয় নেতাকর্মীদের বাইরে সাধারণ মানুষের তেমন আগ্রহ বা অংশগ্রহণ দেখা যাচ্ছে না। তার ভাষ্য, বিরোধী দলের নেতারা আশা করেছিলেন, লংমার্চের সময় সড়কের দুই পাশে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হবে এবং জামায়াতের আমিরের গাড়ি জনসমাগমের কারণে এগোতে পারবে না। তবে ব্যাপক প্রচার ও প্রস্তুতির পরও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট সাধারণ মানুষকে প্রত্যাশিতভাবে আকৃষ্ট করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাশেদ খাঁন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও গ্যাসের সংকট নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, এসব খাতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে সংকট রয়েছে, সে বিষয়ে সাধারণ মানুষ যথেষ্ট সচেতন। একই সঙ্গে ছয় মাসের সরকারের ওপর গত ১৮ থেকে ২০ বছরের সমস্যা, সংকট ও অব্যবস্থাপনার দায় চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তার দাবি, স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বিরোধী দলের ছয় দফা দাবির প্রতিও সাধারণ মানুষের উল্লেখযোগ্য আগ্রহ নেই বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

লংমার্চের কারণে জ্বালানি অপচয়ের বিষয়টি তুলে ধরে রাশেদ খাঁন বলেন, রাস্তাঘাট বন্ধ রাখা এবং যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটার ফলে প্রায় এক লাখ লিটার জ্বালানি অপচয় হচ্ছে। এতে একদিকে পরিবহনব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে চলমান জ্বালানি সংকটের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে বলে তার দাবি।

বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন তিনি। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী ও পণ্যবাহী যান চলাচল করে। লংমার্চের কারণে এসব যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হলে যাত্রীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনেও প্রভাব পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এর ফলে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেন রাশেদ খাঁন।

তবে তার পোস্টে প্রায় এক লাখ লিটার জ্বালানি অপচয়ের হিসাব কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, কিংবা রাষ্ট্রের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির নির্দিষ্ট পরিমাণ কী—সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো হিসাব দেওয়া হয়নি।

পোস্টের শেষ দিকে জামায়াতের লংমার্চের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খাঁন। তার অভিযোগ, দলীয় স্বার্থকে সামনে রেখে এবং মিথ্যাচার ও প্রতারণাকে পুঁজি করে জামায়াত জনগণের ওপর ‘লংমার্চ’ নামের আন্দোলন চাপিয়ে দিয়েছে।

রাশেদ খাঁনের বক্তব্য মূলত লংমার্চের প্রভাব, সড়ক যোগাযোগ, জ্বালানি ব্যবহার এবং সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলের উত্থাপিত দাবিকে ঘিরে। তবে লংমার্চ আয়োজনকারী পক্ষের প্রতিক্রিয়া বা এসব অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category