কলম্বিয়ায় মাদক পাচারকারী ও সশস্ত্র গেরিলা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযানে অন্তত ছয় অপ্রাপ্তবয়স্ক নিহত হয়েছে। দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলার দায়িত্ব গ্রহণের পর গেরিলা ঘাঁটি লক্ষ্য করে চালানো বিমান হামলাগুলো নিয়ে এরই মধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। হামলায় বেসামরিক ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রাণহানি ঠেকাতে সামরিক অভিযানের নিয়ম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৭ আগস্ট প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দে লা এসপ্রিয়েলা গেরিলা ঘাঁটি লক্ষ্য করে তিনটি বিমান হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। এসব অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪২ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে ছয়জন অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে দেশটির ফরেনসিক কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দেশটির একটি আদালত সামরিক বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, কোনো গেরিলা শিবিরে হামলার আগে সেখানে গেরিলা সদস্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়া অপ্রাপ্তবয়স্কদের উপস্থিতির তথ্য পাওয়া গেলে বিমান হামলা স্থগিত করতে হবে। শিশু ও কিশোরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কলম্বিয়ার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব লিগ্যাল মেডিসিন অ্যান্ড ফরেনসিক সায়েন্সেস জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ছয় অপ্রাপ্তবয়স্কের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুজনের বয়স ছিল মাত্র ছয় বছর।
গত ৩১ আগস্ট আমাজন অঞ্চলে পরিচালিত একটি বিমান হামলায় ওই দুই শিশু নিহত হয়। ওই অভিযানে সাবেক বিদ্রোহী সংগঠন ফার্কের (FARC) একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সন্দেহভাজন ২৪ সদস্যও নিহত হন। সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, গেরিলা তৎপরতা দমনের অংশ হিসেবেই অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছিল।
এর আগে একই আমাজন অঞ্চলের গুয়াভিয়ারে এবং ভেনেজুয়েলা সীমান্তবর্তী উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কাটাতুম্বো এলাকায় পৃথক দুটি বিমান হামলা চালানো হয়। ওই দুই অভিযানে আরও চার অপ্রাপ্তবয়স্ক নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
কলম্বিয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে। ২০১৬ সালে কলম্বিয়া সরকার ও ফার্কের মধ্যে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর সংগঠনটির বড় একটি অংশ অস্ত্র সমর্পণ করে। তবে ফার্কের কিছু সদস্য শান্তিচুক্তি প্রত্যাখ্যান করে সশস্ত্র কার্যক্রম চালিয়ে যেতে থাকে। এর পাশাপাশি দেশটির বিভিন্ন এলাকায় মাদক পাচার ও অবৈধ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ডও অব্যাহত রয়েছে।
নতুন সরকারের অধীনে এসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার হওয়ার মধ্যেই শিশুদের মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। বিশেষ করে গেরিলা গোষ্ঠীগুলোতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের নিয়োগের অভিযোগ থাকায় অভিযান পরিচালনার আগে তাদের উপস্থিতি শনাক্ত করা কতটা সম্ভব এবং বেসামরিক প্রাণহানি এড়াতে সামরিক বাহিনী কী ধরনের সতর্কতা নিচ্ছে—এসব প্রশ্ন এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আদালতের সাম্প্রতিক নির্দেশের ফলে গেরিলা ঘাঁটি লক্ষ্য করে ভবিষ্যৎ বিমান হামলার ক্ষেত্রে গোয়েন্দা তথ্য যাচাই এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের উপস্থিতি শনাক্ত করার বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট হামলাগুলো নিয়ে তদন্ত ও নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে আরও তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হবে না।