দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত শিশু এবং মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ হাজার ১৫৯ শিশুর শরীরে। পাশাপাশি নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে আরও ৭২ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এক দিনে হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম—দুই হিসাব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৩১ জনে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত হামের পরিস্থিতিবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গের সংক্রমণ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এই সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ৫৯ হাজার ১৫০ শিশু। এর বাইরে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৩৮৪ জন।
মৃত্যুর হিসাবও পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরছে। গত ১৫ মার্চ থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৮০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯৯ শিশু। দুই হিসাব একত্র করলে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৭৯ জনে।
অর্থাৎ, দেশে হাম পরিস্থিতির মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা ইতোমধ্যে এক হাজারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। শুধু গত এক দিনেই হামের উপসর্গ নিয়ে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে উপসর্গ দেখা দিয়েছে এক হাজারের বেশি শিশুর শরীরে।
হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তদের একটি বড় অংশকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৫১৯ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
চিকিৎসা শেষে তাদের মধ্যে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৫৮ শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। অর্থাৎ বিপুলসংখ্যক শিশুকে হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে হয়েছে, যা দেশের স্বাস্থ্যসেবার ওপরও বড় চাপ তৈরি করছে।
হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত রোগীর হিসাব আলাদাভাবে রাখা হচ্ছে। ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বিবেচনায় নেওয়ার ক্ষেত্রে দুই ধরনের তথ্যের পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্তদের পাশাপাশি উপসর্গ থাকা রোগীদের সংখ্যাও আলাদাভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
মঙ্গলবারের প্রতিবেদনে গত ২৪ ঘণ্টার যে চিত্র উঠে এসেছে, তাতে নতুন করে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ হাজার ১৫৯ শিশুর শরীরে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ৭২ শিশু।
ফলে এক দিনে হাম বা হামের উপসর্গে আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৩১ জনে। এর সঙ্গে আগের দিনগুলোর আক্রান্তের সংখ্যা যোগ হওয়ায় গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৫৯ হাজার ১৫০ এবং নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৩৮৪ জনে পৌঁছেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ধারাবাহিক প্রতিবেদনে গত কয়েক মাসের সংক্রমণ ও মৃত্যুর চিত্র প্রকাশ পাচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে উপসর্গজনিত আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে হিসাব করলে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৮০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর পাশাপাশি নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯৯ শিশু। সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৯৭৯।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই হিসাবের মধ্যে নিশ্চিত হাম এবং হামের উপসর্গ—দুই ধরনের মৃত্যুই রয়েছে। ফলে মৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণে দুই শ্রেণির তথ্য আলাদাভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা এবং সংক্রমণ শনাক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক রোগীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর বাড়তে থাকা চাপেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে।
দেশে ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই সংক্রমণ পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রায় ৯৮০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। প্রতিদিন নতুন রোগী শনাক্ত হওয়া এবং উপসর্গযুক্ত শিশুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় হাম পরিস্থিতি এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।