• রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:০৪ অপরাহ্ন

সালিসের পর সকালে তরুণের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

newsline24 / ৯ Time View
Update : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬
সালিসের পর সকালে তরুণের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
সালিসের পর সকালে তরুণের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাতে সালিস বসার পরদিন সকালে এমরান হোসেন (২৩) নামে এক তরুণের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে গৌরারং ইউনিয়নের বেড়াজালী গ্রামের নিজ বাড়ির বারান্দা থেকে বাঁশের আড়ার সঙ্গে রশি প্যাঁচানো অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এমরান ওই গ্রামের আবদুল হাসিমের ছেলে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় তাঁর শার্টের পকেট থেকে একটি চিরকুট পাওয়া যায়। তবে ওই চিরকুটে কী লেখা ছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য দেয়নি পুলিশ। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। উদ্ধার হওয়া চিরকুটের বিষয়ে তদন্ত না করে এখনই কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।

এমরানের ছোট ভাই তুহিন হোসেন জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে বেড়াজালী বাজার থেকে স্থানীয় বাসিন্দা চান মিয়ার একটি পানির মোটর ও কিছু বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়। এরপর চান মিয়ার ছেলে আবুল ফজল এমরান ও একই গ্রামের নিলু মিয়ার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তোলেন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাতে বেড়াজালী বাজারে সালিস বসানো হয়। স্থানীয় গৌরারং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক শওকত আলীর কার্যালয়ে ওই সালিস অনুষ্ঠিত হয় বলে পরিবারটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এমরানের বাবা আবদুল হাসিমের অভিযোগ, সালিসে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি চুরির বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান। এরপরও চেয়ারম্যান ও চান মিয়া তাঁর ছেলের ওপর চুরির দায় চাপান বলে দাবি করেন তিনি।

আবদুল হাসিমের আরও অভিযোগ, সালিসের সময় তাঁর স্ত্রী সাহারা বেগম কথা বলতে চাইলে চেয়ারম্যান তাঁকে হুমকি দেন এবং মারধরের চেষ্টা করেন। পরে আগামী সোমবারের মধ্যে চুরি যাওয়া পানির মোটর ফেরত দেওয়ার জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হয়। মোটর ফেরত দিতে না পারলে তাঁদের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগে পুলিশে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, সালিসে অপমানিত হওয়ার পর এমরান মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। রাতে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির বারান্দায় বাঁশের আড়ার সঙ্গে এমরানের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান স্বজনেরা।

এমরানের বাবা বলেন, তাঁর ছেলে চুরির অভিযোগে অপমানিত হওয়ার পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। ছেলের মৃত্যুর জন্য তিনি সালিসে ওঠা অভিযোগ ও অপমানের ঘটনাকে দায়ী করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার দাবি করেছেন।

তবে এমরানের পরিবারের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান শওকত আলী। তাঁর দাবি, সালিসে এমরান বা তাঁর পরিবারের কাউকে তিনি কোনো ধরনের হুমকি দেননি। তিনি জানান, বিষয়টির সঙ্গে স্থানীয় একটি পারিবারিক বিরোধও জড়িত ছিল এবং ওই পরিবারের এক আত্মীয়ের সঙ্গে টাকা-পয়সার লেনদেন নিয়ে বিরোধ চলছিল।

চেয়ারম্যানের ভাষ্য, এমরান ঋণগ্রস্ত ছিলেন। আগামী সোমবার ওই পারিবারিক বিরোধ নিয়ে আবারও সালিস বসার কথা ছিল। চুরি যাওয়া পানির মোটর পাওয়া গেলে সেটিও সেদিন নিয়ে আসতে বলা হয়েছিল। এর বাইরে এমরান বা তাঁর পরিবারকে কোনো ধরনের চাপ দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

ঘটনাটিকে ঘিরে এখন কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—সালিসে ঠিক কী আলোচনা হয়েছিল, এমরানের পকেটে পাওয়া চিরকুটে কী লেখা ছিল এবং তাঁর মৃত্যুর পেছনে কী কারণ কাজ করেছে। এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ঘটনাস্থলের আলামত, উদ্ধার হওয়া চিরকুট এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পর্যালোচনার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category