ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও উন্নত করতে বাংলাদেশ সরকার আন্তরিক। তবে এ সম্পর্ক হতে হবে সমমর্যাদা, পারস্পরিক স্বার্থ ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে—এমন অবস্থানের কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মুহাম্মাদ আব্দুল খালেকের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারের এ অবস্থান তুলে ধরেন।
খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে সীমান্ত পরিস্থিতি, বাণিজ্য, যোগাযোগ ও সংযোগপথ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য বিভিন্ন ঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগ রয়েছে। যেসব বিষয় দুই দেশের মধ্যে অস্থিরতা বা নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ তৈরি করতে পারে, সেগুলোও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হয়।
সীমান্ত ব্যবস্থাপনার বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ে বছরে দুইবার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ বৈঠকটি গত জুনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব বৈঠকে সীমান্ত হত্যা, অবৈধ পুশ-ইন এবং সীমান্তকেন্দ্রিক বিভিন্ন নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
শুধু উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেই সীমান্তসংক্রান্ত বিষয় সীমাবদ্ধ থাকে না। স্থানীয় পর্যায়েও বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কোনো ঘটনায় বাংলাদেশের স্বার্থ বা নাগরিকদের নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন হলে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিবাদলিপি দেওয়া হয়। একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কূটনৈতিক পত্রের মাধ্যমেও ভারত সরকারের কাছে জোরালো প্রতিবাদ জানানো হয় বলে সংসদে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
মাদক চোরাচালান প্রতিরোধেও দুই দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থার মধ্যে যোগাযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর এবং ভারতের নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর মহাপরিচালক পর্যায়ে এ বিষয়ে বৈঠক হয়ে থাকে। পরবর্তী বৈঠকটি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়টিও সরকারের অগ্রাধিকারে রয়েছে বলে জানান খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈধ পথে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ ক্ষেত্রে আঞ্চলিক ও উপআঞ্চলিক সহযোগিতার বিভিন্ন কাঠামোকে কাজে লাগানোর কথা উল্লেখ করেন তিনি। সার্ক, বিমসটেক ও বিবিআইএনের মতো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা কমানো, পণ্য ও সেবার সরবরাহ সহজ করা এবং ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সীমান্ত বাণিজ্য আরও সহজ করতে মানসম্মতকরণ, কাস্টমস সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বীকৃতি চুক্তির মতো ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য পণ্য আমদানি-রপ্তানির প্রক্রিয়া সহজ হওয়ার পাশাপাশি সীমান্তকেন্দ্রিক বৈধ বাণিজ্যের সুযোগও বাড়তে পারে।
সরকারের বক্তব্যে স্পষ্ট, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশ শুধু প্রতিবেশীসুলভ যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না; বরং নিরাপত্তা, বাণিজ্য, যোগাযোগ ও আঞ্চলিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায়। তবে সেই সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমমর্যাদা ও বাংলাদেশের স্বার্থের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।