বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ধানখেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে আপন দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার হোগলাপাশা ইউনিয়নের শৌলখালী গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন ওই গ্রামের মনোরঞ্জন বাছাড়ের ছেলে বিধান বাছাড় (৫৫) ও মানিক বাছাড় (৪০)। তারা সম্পর্কে আপন ভাই। সকালে বাড়ির কাছের ধানখেতে কাজ করতে গিয়ে আকস্মিক বজ্রপাতের শিকার হন তারা।
নিহতদের ভাইয়ের ছেলে রাজিব বাছাড় জানান, বুধবার সকালে তার দুই কাকা বাড়ি থেকে বের হয়ে মাঠে কাজ করতে যান। সকাল থেকেই এলাকার আকাশের অবস্থা খারাপ ছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে আবহাওয়া আরও প্রতিকূল হয়ে ওঠে। এর মধ্যেই বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ধানখেতে কাজ করার সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।
একসঙ্গে দুই ভাইয়ের মৃত্যুর খবরে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের মধ্যেও এ ঘটনায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নিহত বিধান বাছাড়ের স্ত্রী ও চার সন্তান রয়েছে। অন্যদিকে তার ছোট ভাই মানিক বাছাড়ও স্ত্রী ও দুই সন্তান রেখে গেছেন। দুই পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যের আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজনদের সামনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ওই এলাকায় ধানখেতসহ কৃষিজমিতে নিয়মিত কাজ করেন অনেক মানুষ। বর্ষাকালে বজ্রপাতের ঝুঁকি বাড়ায় মাঠে কাজ করার সময় কৃষকদের বাড়তি সতর্ক থাকার প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে আকাশে কালো মেঘ জমা, বজ্রের শব্দ বা বৃষ্টি শুরুর লক্ষণ দেখা দিলে খোলা মাঠ থেকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল্লাহ দুই ভাইয়ের বজ্রপাতে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বজ্রপাতে আপন দুই ভাইয়ের মৃত্যুর খবর তারা পেয়েছেন। খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে।
বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, ধানখেত বা জলাশয়ের কাছে অবস্থান করা তুলনামূলকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। আবহাওয়া খারাপ হলে কৃষিকাজ সাময়িক বন্ধ রেখে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়াই ঝুঁকি কমানোর অন্যতম উপায়। মোরেলগঞ্জের এই ঘটনায় একই পরিবারের দুই ভাইয়ের প্রাণহানি আবারও বজ্রপাতের সময় সতর্ক থাকার গুরুত্ব সামনে এনেছে।