• বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৬ অপরাহ্ন

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতেই বিএনপির পাঁচ জেলায় সংঘর্ষ

newsline24 / ১৫ Time View
Update : বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতেই বিএনপির পাঁচ জেলায় সংঘর্ষ
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতেই বিএনপির পাঁচ জেলায় সংঘর্ষ

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে ঘিরে দেশের পাঁচ জেলায় দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পালটাধাওয়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বরিশাল, পটুয়াখালী, মুন্সীগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জে এসব ঘটনা ঘটে। সবচেয়ে বেশি উত্তেজনা দেখা যায় পটুয়াখালীর গলাচিপায়, যেখানে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর ও চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডেও আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন।

পটুয়াখালীর গলাচিপায় উপজেলা বিএনপির আয়োজনে পৌরশহরের পৌরমঞ্চে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে একটি র‌্যালি বের করা হলে সেটি বটতলা মোড়ে পৌঁছানোর পর বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বহিষ্কৃত সদস্য হাসান মামুনের সমর্থকদের সঙ্গে উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরোধ শুরু হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পালটাধাওয়া ও সংঘর্ষ বেধে যায়।

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা ও সদস্যসচিব আলতাব হোসেনের নেতৃত্বে র‌্যালিটি বের হয়েছিল বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ২০ মিনিট ধরে সংঘর্ষ চলে। এতে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের সময় হাবিব হোটেলসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পরে পৌরশহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

তবে গলাচিপায় আহতের সংখ্যা নিয়ে স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক সংঘর্ষের ঘটনা সম্পর্কে অবগত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তার কাছে নেই বলে জানান তিনি। গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইমতিয়াজ আহমেদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বরিশাল নগরীতেও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি চলাকালে বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে একাধিকবার হাতাহাতি হয়। নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার টাউন হল ও পাশের দলীয় কার্যালয়ের সামনে মিছিলের সামনের দিকে যাওয়া এবং স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা ও পুলিশ হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন ইসলাম বলেন, সেখানে সামান্য উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল এবং তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মিল্টন দত্তসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। জমজম টাওয়ারের সামনে এই সংঘর্ষ হয়। কেন্দ্রীয় বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু এবং মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ আব্দুল্লাহর অনুসারীদের মধ্যে বিরোধ থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে সংঘর্ষের মধ্যে এক পুলিশ কর্মকর্তাও আহত হন।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র‌্যালিতেও নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। মিশনপাড়া থেকে বের হওয়া মিছিলটি চাষাঢ়া সমবায় মার্কেটের সামনে পৌঁছানোর পর কয়েকজন নেতাকর্মীর মধ্যে মারধর শুরু হয়। পরে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেখানে বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের সময় ১০ থেকে ১২টি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এতে পাঁচ পথচারীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন।

ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে প্রায় দেড় ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন আটকা পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে মহাসড়কে যান চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়।

সীতাকুণ্ড থানার ওসি মহিনুল ইসলাম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মতো দলীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় কোন্দল ও নেতৃত্বকেন্দ্রিক বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। একই দিনে পাঁচ জেলায় সংঘর্ষ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটায় কর্মসূচির নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে এসব ঘটনার পেছনের কারণ, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য এবং কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না—তা সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও দলীয় সূত্রের পরবর্তী বক্তব্যের ওপর নির্ভর করবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category