পাবনার ঈশ্বরদীতে মেহেদী হাসান (১৭) নামে এক কিশোরকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে যায় অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী নেওয়ার পথে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ভোরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মেহেদী হাসান ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের মাজদিয়া ইসলামপাড়া গ্রামের আনিছুর রহমানের ছেলে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মেহেদী অটোচালকের কাজ করতেন।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোরে গুরুতর আহত অবস্থায় মেহেদীকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি তাকে সেখানে রেখে চলে যান। পরে হাসপাতাল থেকে পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হলে তারা দ্রুত সেখানে ছুটে যান।
মেহেদীর বাবা আনিছুর রহমান বলেন, ভোর ৫টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ফোন করে তাকে জানানো হয়, তার ছেলে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। হাসপাতালে গিয়ে তিনি মেহেদীকে সংকটাপন্ন অবস্থায় দেখতে পান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও তাকে জানায়, ভোরে কেউ একজন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মেহেদীকে হাসপাতালে রেখে গেছে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ সাবিয়া মরিয়ম জানান, মেহেদীকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকেরা তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
এরপর পরিবারের সদস্যরা মেহেদীকে নিয়ে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হন। পথে লালপুর অতিক্রম করার সময় তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। পরে তাকে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মৃত ঘোষণা করেন।
মেহেদীর বাবা আনিছুর রহমান বলেন, তার ছেলের সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ বা শত্রুতা ছিল বলে তিনি জানেন না। কারা তাকে মারধর করেছে, কী কারণে মারধর করা হয়েছে কিংবা কোথায় ঘটনাটি ঘটেছে—এসব বিষয়ে পরিবারের কাছে কোনো তথ্য নেই।
ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান বলেন, ভোরে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি মেহেদীকে গুরুতর আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে যান। পরে রাজশাহী নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মেহেদীকে কারা এবং কী কারণে মারধর করেছে, ঘটনাটি কোথায় ঘটেছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তারের তথ্য জানায়নি পুলিশ। মেহেদীর মৃত্যুকে ঘিরে তার পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।