• বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন

মদনে সহকর্মীর বিরুদ্ধে জোরপূর্বক সম্পর্কের অভিযোগ

newsline24 / ৩৭ Time View
Update : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬
মদনে সহকর্মীর বিরুদ্ধে জোরপূর্বক সম্পর্কের অভিযোগ
মদনে সহকর্মীর বিরুদ্ধে জোরপূর্বক সম্পর্কের অভিযোগ

নেত্রকোনার মদনে একটি সরকারি কলেজের এক অফিস সহায়কের বিরুদ্ধে একই প্রতিষ্ঠানের এক নারী সহকর্মীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান রুবেল ওই কলেজের অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত। একই সঙ্গে বিয়ের কথা বলে ওই নারীর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে কলেজ কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটি গঠনের প্রায় ১০ দিন পার হলেও এখনো তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি। তদন্ত কমিটির প্রধান জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যে অধ্যক্ষের কাছে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, হাফিজুর রহমান রুবেল ও অভিযোগকারী নারী ২০১০ সালে একই কলেজে অফিস সহায়ক হিসেবে যোগ দেন। দীর্ঘদিন ধরে তারা একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। অভিযোগকারী নারীর স্বামী প্রায় তিন বছর আগে মারা যান। অন্যদিকে, রুবেলের স্ত্রী কাজের সন্ধানে বিদেশে যাওয়ার পর ওই নারীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী নারীর দাবি, স্বামী মারা যাওয়ার পর রুবেল তার বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে তিনি ওই নারীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন। এরপর তাদের মধ্যে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১০ আগস্ট কলেজ ছুটির পর রুবেল কৌশলে ওই নারীকে কলেজের একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই নারী। এ সময় কয়েকজন বিষয়টি দেখে ফেললে তারা দুজনকে একসঙ্গে রেখে ছবি তুলে রাখেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থ লেনদেনের বিষয়েও রুবেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারী নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে প্রথমে তার কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নেন রুবেল। পরে মদন সোনালী ব্যাংক শাখা থেকে ওই নারী আরও আট লাখ টাকা তুলে তাকে দেন। ওই ঋণের জামিনদার হিসেবেও রুবেলের নাম রয়েছে বলে অভিযোগকারী পক্ষ দাবি করেছে।

অভিযোগকারী আরও বলেন, ১০ লাখ টাকা দেওয়ার পরও রুবেল বিয়ের বিষয়ে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাফিজুর রহমান রুবেল তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, ওই নারীর অভিযোগ মিথ্যা। বিষয়টি নিয়ে এর আগেও অধ্যক্ষের উপস্থিতিতে কয়েকজনকে নিয়ে আলোচনা হয়েছিল এবং সেখানেই তা মীমাংসা করা হয়েছিল। নতুন করে অভিযোগ তোলার কারণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তদন্ত কমিটির প্রধান বলেন, ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অধ্যক্ষ তাকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটি বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং আগামী সপ্তাহের মধ্যেই অধ্যক্ষের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

এদিকে, মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন করিম জানিয়েছেন, এ বিষয়ে এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, অফিস সহায়কের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কলেজ কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেওয়া হলে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও স্পষ্টতা পাওয়া যাবে। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category