• শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন

চলন্ত ট্রেনে ধর্ষণের অভিযোগ, প্রত্যাহার চার পুলিশ সদস্য

newsline24 / ২২ Time View
Update : বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
চলন্ত ট্রেনে ধর্ষণের অভিযোগ, প্রত্যাহার চার পুলিশ সদস্য
চলন্ত ট্রেনে ধর্ষণের অভিযোগ, প্রত্যাহার চার পুলিশ সদস্য

ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী আন্তনগর কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের ক্যান্টিনে চলন্ত অবস্থায় এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগের ঘটনায় দায়িত্বে থাকা চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদের পাকশী রেলওয়ে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে অধিকতর তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল উদ্দীন। তিনি জানান, ঘটনার সময় কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে দায়িত্ব পালন করা চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পাকশী রেলওয়ে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তের পর তাদের বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ আগস্ট ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের ক্যান্টিনে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগকারী ওই নারীর বয়স ৪৪ বছর। তার অভিযোগ, ট্রেনটি চলন্ত অবস্থায় তাকে ক্যান্টিনে নিয়ে আবু বক্কর সিদ্দিকসহ কয়েকজন ধর্ষণ করেন।

ঘটনার একপর্যায়ে ওই নারী চিৎকার শুরু করলে ট্রেনের অন্য যাত্রীরা বিষয়টি টের পান। পরে কয়েকজন যাত্রী এগিয়ে এসে আবু বক্কর সিদ্দিককে আটক করেন। এরপর তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী নিজেই বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে তাদের মধ্যে দুই পুলিশ সদস্যের নাম উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীর অভিযোগে ঘটনার সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের সম্পৃক্ততার কথাও উঠে এসেছে। সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তদন্ত চলছে। এ কারণে ঘটনার সময় ট্রেনে দায়িত্বে থাকা চার পুলিশ সদস্যকে আপাতত দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

সান্তাহার রেলওয়ে থানার ওসি দুলাল উদ্দীন বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী ঘটনার সঙ্গে পুলিশ সদস্যের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মামলার পর আবু বক্কর সিদ্দিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে কারা ঘটনার সঙ্গে কীভাবে জড়িত ছিলেন, সে বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। তাদের ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

চলন্ত ট্রেনে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ট্রেনে দায়িত্ব পালনকারী নিরাপত্তাকর্মীদের ভূমিকা এবং চলন্ত অবস্থায় ক্যান্টিনের মতো স্থানে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে অভিযোগের পূর্ণ সত্যতা এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক ব্যক্তির ভূমিকা তদন্ত শেষ হওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category