জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ঢাকাসহ সারা দেশে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আগামী শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে শোভাযাত্রাটি মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ হবে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এসব কর্মসূচির কথা জানান। বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দলের নেওয়া বিভিন্ন আয়োজনের বিষয়েও সাংবাদিকদের অবহিত করেন তিনি।
রিজভী জানান, দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের অংশ হিসেবে রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলায় শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এসব কর্মসূচিতে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকার শোভাযাত্রাটি নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অতিক্রম করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে পৌঁছাবে।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচিত সরকারকে বাধাগ্রস্ত করার লক্ষ্যে দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বিভিন্ন ধরনের অপতৎপরতা চলছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা কিংবা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করা উচিত নয়। রাজনৈতিক বিরোধ থাকলেও দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
দেশের তৈরি পোশাকশিল্প নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। তিনি বলেন, পোশাক খাতকে ঘিরে ষড়যন্ত্রের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর যে আশঙ্কা ছিল, তা প্রমাণিত হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয়ে তৈরি পোশাকশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বিবেচনায় নিয়ে এ খাতের বিরুদ্ধে যেকোনো অপতৎপরতা প্রতিরোধ করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
রিজভী আরও বলেন, দেশে যেকোনো ধরনের অরাজক পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং তা প্রতিহত করার সক্ষমতা সরকারের রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সক্ষম বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পরিচিত। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহকে কেন্দ্র করে বিএনপি দিনটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পালন করে। প্রতিবছর দিবসটি উপলক্ষে দলটি আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা, দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করে। এবারও কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালনের প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি।