বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নিম্নতম মজুরি বোর্ডের শিল্প শাখা থেকে জারি করা এক নোটিশে সভার তারিখ ও আলোচ্যসূচি জানানো হয়েছে।
নোটিশ অনুযায়ী, আগামী সোমবার (৯ নভেম্বর) সকাল ১১টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অবস্থিত ৪০ নম্বর ভবনে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সভাকক্ষে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ আজাদ সুবহানী।
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩৯ ধারা অনুযায়ী আয়োজিত এ সভায় তৈরি পোশাকশিল্পের সব শ্রেণির শ্রমিক ও কর্মচারীর জন্য নিম্নতম মজুরি নির্ধারণের সুপারিশ প্রণয়ন নিয়ে আলোচনা হবে। আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে লিখিত মজুরি প্রস্তাব উপস্থাপন।
বোর্ডের সভায় উপস্থিত থাকার জন্য নিরপেক্ষ সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলে উদ্দিন আহমদ, মালিকপক্ষের প্রতিনিধি বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বোর্ডের সদস্য ও তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিনকে মজুরি হারের প্রস্তাব দাখিলের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সচিব রাইসা আফরোজ স্বাক্ষরিত নোটিশে সংশ্লিষ্ট সব সদস্যকে নির্ধারিত সময়ে সভায় উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শ্রমিকদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সভা?
তৈরি পোশাকশিল্প বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাত। এ শিল্পে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কাজ করেন। তাঁদের জীবনযাত্রার ব্যয়, খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াতের খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা শ্রমিকদের জীবনমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা, ব্যবসায়িক ব্যয়, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা এবং রপ্তানি আদেশের বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিতে হয়। ফলে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রস্তাবের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা নিম্নতম মজুরি বোর্ডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
৯ নভেম্বরের সভায় উভয় পক্ষের লিখিত প্রস্তাব জমা পড়লে মজুরি নিয়ে আলোচনার পরবর্তী ধাপ এগিয়ে যাবে। তবে নতুন মজুরির পরিমাণ কত হতে পারে, সে বিষয়ে নোটিশে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। একইভাবে, কবে নাগাদ চূড়ান্ত সুপারিশ দেওয়া হবে, সেটিও এখনো জানানো হয়নি।
বোর্ডের আলোচনা ও পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া কোন দিকে এগোয়। ফলে শ্রমিক, মালিক এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পমহলের নজর থাকবে আগামী ৯ নভেম্বরের বৈঠকের দিকে।