• বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
আওয়ামী লীগকে আগলে রাখছে বিএনপি, নাহিদ ইসলামের অভিযোগ দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু নির্মাণে নতুন উদ্যোগ, পদ্মা ব্যারেজেও জোর নওগাঁ কারাগারে অসুস্থ হয়ে মারা গেলেন আ. লীগ নেতা জাকির জাকির নায়েক প্রত্যর্পণে অনড় মালয়েশিয়া, ভারতের দাবি মানছে না কুয়ালালামপুর রাজপথের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে শ্রমিকদের সম্পর্ক নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জমির সীমানা নির্ধারণে ৮০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি, এক লাখ নিতে গিয়ে গ্রেপ্তার সার্ভেয়ার হাদি হত্যা মামলা: তদন্ত প্রতিবেদন জমায় ফের পেছাল সময় কুষ্টিয়ায় রেলওয়ের জমি বিক্রির অভিযোগ, দুই কাঠার দাম ৩ লাখ ডিসেম্বর ঘিরে পোশাকশিল্পে অস্থিরতার ছক, গোয়েন্দা নজরদারিতে একাধিক ব্যক্তি সীতাকুণ্ডে ট্যাংকলরির চাপায় প্রাণ গেল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর

দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু নির্মাণে নতুন উদ্যোগ, পদ্মা ব্যারেজেও জোর

newsline24 / ২৫ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬
দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু নির্মাণে নতুন উদ্যোগ, পদ্মা ব্যারেজেও জোর
দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু নির্মাণে নতুন উদ্যোগ, পদ্মা ব্যারেজেও জোর

দেশের যোগাযোগব্যবস্থা, কৃষি ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রস্তাবিত দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ওয়াই-আকৃতিতে নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার পাশাপাশি দ্বিতীয় যমুনা সেতুর ক্ষেত্রে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন। বৈঠকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পের সম্ভাবনা, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া, অর্থায়ন এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ও দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। আগামী বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই সমীক্ষা শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সমীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করে সেতু দুটির উপযুক্ত স্থান, নির্মাণ নকশা এবং সম্ভাব্য প্রকল্প ব্যয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অর্থাৎ, নির্মাণকাজ শুরুর আগে প্রকল্পগুলোর কারিগরি ও অর্থনৈতিক দিক যাচাই করে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রে ওয়াই-আকৃতির নকশা নিয়ে বৈঠকে বিশেষ আলোচনা হয়েছে। প্রস্তাবিত এই কাঠামো বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ আরও সহজ ও কার্যকর হতে পারে। একই সঙ্গে মোংলা সমুদ্রবন্দর এবং বেনাপোল ও দর্শনা স্থলবন্দরের সঙ্গে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে পণ্য পরিবহন, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে।

বর্তমানে পদ্মা সেতু দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে ভবিষ্যতে যানবাহনের চাপ, পণ্য পরিবহনের চাহিদা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিধি বাড়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে দ্বিতীয় সেতুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। নতুন সেতু নির্মিত হলে বিদ্যমান যোগাযোগ অবকাঠামোর ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি বিকল্প রুট তৈরির সুযোগও সৃষ্টি হতে পারে।

অন্যদিকে, দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনায় উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে রাজধানী ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ আরও উন্নত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। যমুনা নদীর ওপর নতুন সেতু নির্মিত হলে বিদ্যমান সেতুর ওপর যানবাহনের চাপ কমানো এবং উত্তরাঞ্চলের পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে বাড়তি সুবিধা তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।

উত্তরাঞ্চল দেশের কৃষিপ্রধান এলাকাগুলোর অন্যতম। এ অঞ্চলের কৃষিপণ্য রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে দ্রুত পৌঁছানো এবং শিল্প-বাণিজ্যের সম্প্রসারণে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নতুন সেতুর পরিকল্পনায় এসব অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক চাহিদা বিবেচনায় নেওয়ার বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে।

বৈঠকে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট মোকাবিলা, কৃষিকাজে সেচের সুবিধা বাড়ানো এবং নদীর পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো আলোচনায় আসে। পদ্মা ব্যারেজ নির্মিত হলে পানি সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রিত প্রবাহ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

একই সঙ্গে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ, বড় ধরনের পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে শুধু পানির ব্যবহার নয়, নদীর প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং ভাটির অঞ্চলে পানিপ্রবাহের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবও বিবেচনা করা জরুরি। ব্যারেজের ওপর দিয়ে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাবনাও বৈঠকে আলোচনায় এসেছে। এ ধরনের সংযোগ বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে বাড়তি সুবিধা তৈরি হতে পারে।

তবে প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন নির্ভর করবে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, কারিগরি মূল্যায়ন এবং অর্থনৈতিক যৌক্তিকতার ওপর। এ জন্য অর্থায়নের উৎস নির্ধারণ, জমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের বিষয়গুলোও বৈঠকে আলোচনা করা হয়েছে।

তিনটি প্রকল্পই বড় পরিসরের অবকাঠামোগত উদ্যোগ। ফলে নির্মাণ ব্যয়, পরিবেশগত প্রভাব, দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রকল্প থেকে প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুফল নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বিশেষ করে পদ্মা ব্যারেজের ক্ষেত্রে পানি ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশগত প্রভাবের যথাযথ মূল্যায়ন প্রয়োজন হবে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান।

এ ছাড়া অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিন এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বৈঠকে অংশ নেন।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর প্রকল্পগুলোর অবস্থান, নকশা ও ব্যয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category