জাকির হোসেন নবাব বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন। এ ছাড়া বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে জাকির হোসেন নবাবকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা একজন চিকিৎসক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার সময় জাকির হোসেনের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে তাঁকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু হয়। তবে কী কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন কিংবা মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো শারীরিক জটিলতা ছিল কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
নওগাঁ জেলা কারাগারের জেল সুপার রত্না রায় জানান, জাকির হোসেন নবাব একটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় গত বছর থেকে নওগাঁ জেলা কারাগারে বন্দি ছিলেন। মঙ্গলবার সকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে কারা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
জেল সুপার আরও জানান, মৃত্যুর পর প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে। এ জন্য প্রথমে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি এবং ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। সব ধরনের আইনি কার্যক্রম শেষ হলে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
কারাগারে বন্দি অবস্থায় কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে চিকিৎসা ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জাকির হোসেন নবাবের ক্ষেত্রেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাঁর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যেতে পারে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানানো হয়নি।