মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে চিংড়ি মহাল ব্যবস্থাপনা বিষয়ক আন্তমন্ত্রণালয় সভায় অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি ও অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তবে রাজপথে চলমান আন্দোলনের সঙ্গে প্রকৃত শ্রমিকদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। একটি স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিস্থিতিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। এ ধরনের অপতৎপরতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
চলমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা কিংবা জননিরাপত্তার বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
বন্ধ থাকা কারখানাগুলো দ্রুত চালুর বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, শ্রমিকদের মজুরি ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এ উদ্যোগে মালিক ও শ্রমিক—উভয় পক্ষই সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় সরকার কাজ করছে। শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্পকারখানায় স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম বজায় রাখাও সরকারের লক্ষ্য। এ খাতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরির কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।
শিল্প খাতে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিলে তার প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট কারখানায় সীমাবদ্ধ থাকে না। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থা, রপ্তানি কার্যক্রম এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে তৈরি পোশাকসহ রপ্তানিমুখী শিল্পে দীর্ঘ সময় কারখানা বন্ধ থাকলে শ্রমিকদের আয় এবং মালিকদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম—দুই ক্ষেত্রেই ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।
এ পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া আলোচনার মাধ্যমে সমাধান এবং শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব রয়েছে। মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম কত দ্রুত এগোয় এবং বন্ধ কারখানাগুলো কবে নাগাদ উৎপাদনে ফিরবে, সেটিও এখন সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ও মালিকপক্ষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তবে রাজপথের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে শ্রমিকদের সম্পর্ক নেই এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের বিষয়ে আন্দোলনকারীদের কোনো প্রতিক্রিয়া মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে চলমান পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের প্রকৃত দাবি, আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় এবং কারখানা চালুর অগ্রগতি নিয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য সামনে আসা গুরুত্বপূর্ণ।