মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটে সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ডালাস পেট্রল পাম্পের পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে মহাসড়ক পার হওয়ার সময় ঢাকাগামী দ্রুতগতির একটি ট্যাংকলরি মাইশাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার পর আহত শিক্ষার্থীদের দ্রুত উদ্ধারে উদ্যোগ নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গুরুতর আহত মাইশাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল আলম আশেক জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় আইআইইউসির এক ছাত্রীকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
নিহত মাইশা মুশফিরাত আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বটকাটিয়া গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের সাখাওয়াত হোসেন ও সালমা আক্তার দম্পতির মেয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শুরুতেই এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যুতে পরিবার, সহপাঠী ও স্বজনদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ হাসমত আলী দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান। সেখানে তারা আহত শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেন এবং নিহত ছাত্রীর বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ কাশেম স্বাক্ষরিত এক শোকবার্তায় মাইশার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। শোকবার্তায় নিহত ছাত্রীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করার পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস স্থগিত ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। আকস্মিক এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে নিহত শিক্ষার্থীর প্রতি শোক ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সড়ক দুর্ঘটনায় একজন তরুণ শিক্ষার্থীর এমন অকালমৃত্যু আবারও মহাসড়কে পথচারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে দিয়ে যাওয়া ব্যস্ত মহাসড়কে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে পারাপারের ব্যবস্থা, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। একটি দুর্ঘটনা শুধু একটি প্রাণ কেড়ে নেয় না, মুহূর্তেই একটি পরিবার ও স্বজনদের জীবনে অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করে।