• বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
আওয়ামী লীগকে আগলে রাখছে বিএনপি, নাহিদ ইসলামের অভিযোগ দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু নির্মাণে নতুন উদ্যোগ, পদ্মা ব্যারেজেও জোর নওগাঁ কারাগারে অসুস্থ হয়ে মারা গেলেন আ. লীগ নেতা জাকির জাকির নায়েক প্রত্যর্পণে অনড় মালয়েশিয়া, ভারতের দাবি মানছে না কুয়ালালামপুর রাজপথের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে শ্রমিকদের সম্পর্ক নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জমির সীমানা নির্ধারণে ৮০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি, এক লাখ নিতে গিয়ে গ্রেপ্তার সার্ভেয়ার হাদি হত্যা মামলা: তদন্ত প্রতিবেদন জমায় ফের পেছাল সময় কুষ্টিয়ায় রেলওয়ের জমি বিক্রির অভিযোগ, দুই কাঠার দাম ৩ লাখ ডিসেম্বর ঘিরে পোশাকশিল্পে অস্থিরতার ছক, গোয়েন্দা নজরদারিতে একাধিক ব্যক্তি সীতাকুণ্ডে ট্যাংকলরির চাপায় প্রাণ গেল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর

গুরুদাসপুরে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জন্য স্থায়ী কবরস্থানের ব্যবস্থা

newsline24 / ১৭ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬
গুরুদাসপুরে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জন্য স্থায়ী কবরস্থানের ব্যবস্থা
গুরুদাসপুরে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জন্য স্থায়ী কবরস্থানের ব্যবস্থা

মৃত্যুর পর শেষ ঠিকানা নিয়েও বৈষম্যের শিকার হতে হতো নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের। সামাজিক কবরস্থানে তাঁদের মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এমনকি স্বজনদেরও অনেক সময় প্রিয়জনের মরদেহ সমাহিত করার জন্য বিকল্প জায়গা খুঁজতে হয়েছে। দীর্ঘদিনের এই বঞ্চনা ও অনিশ্চয়তার অবসানে এবার তাঁদের জন্য আলাদা কবরস্থানের ব্যবস্থা করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ লক্ষ্যে চার শতাংশ জমি কেনা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের মধ্যে। এখন থেকে গুরুদাসপুর উপজেলার এই সম্প্রদায়ের সদস্যরা নিজেদের জন্য নির্ধারিত জমিতে সমাহিত হওয়ার সুযোগ পাবেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিন বছর আগে শীতকালে মারা যান তৃতীয় লিঙ্গের সদস্য ছোহা (৩০)। তাঁর মরদেহ স্থানীয় সামাজিক কবরস্থানে দাফন করতে চেয়েছিলেন স্বজনেরা। কিন্তু সেখানে দাফনের অনুমতি না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত বাড়ির আঙিনায় কবর খুঁড়ে তাঁকে সমাহিত করতে হয়। মৃত্যুর পরও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল গুরুদাসপুরের হিজড়া সম্প্রদায়ের গুরুমাতা নদী সরকারের বাবাকে। তাঁকেও স্থানীয় কবরস্থানে দাফনের সুযোগ দেওয়া হয়নি।

এ ধরনের অভিজ্ঞতা তাঁদের জন্য দীর্ঘদিনের কষ্ট ও অপমানের কারণ হয়ে ছিল। জীবদ্দশায় সামাজিক নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হওয়ার পাশাপাশি মৃত্যুর পর কোথায় সমাহিত হবেন, সেই অনিশ্চয়তাও তাঁদের তাড়িয়ে বেড়াত।

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের কুমারখালী গ্রামের বাসিন্দা গুরুমাতা নদী সরকার। নিজেদের জন্য আলাদা কবরস্থানের ব্যবস্থা হওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। নদী সরকারের ভাষ্য, এত দিন তাঁদের সম্প্রদায়ের সদস্যদের মৃত্যুর পর দাফনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো জায়গা ছিল না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজের উদ্যোগে দীর্ঘদিনের সেই সমস্যার সমাধান হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কুমারখালী গ্রামের ব্যবসায়ী তৌফিক আলীর কাছ থেকে পাঁচ লাখ ১০ হাজার টাকায় চার শতাংশ জমি কেনা হয়েছে। জমি কেনার পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। জমির গ্রহীতা হিসেবে হিজড়া সম্প্রদায়ের পক্ষে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ৩১ মার্চ মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ গুরুমাতা নদী সরকারের হাতে জমির দলিল তুলে দেন। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কেনা এই জমি শুধু কুমারখালী গ্রামের বাসিন্দাদের জন্য নয়, পুরো গুরুদাসপুর উপজেলার তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের কবরস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

তৃতীয় লিঙ্গের গুরুদাসপুর উপজেলা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় এই সম্প্রদায়ের মোট সদস্য ৪৫ জন। তাঁদের মধ্যে ২১ জন বসবাস করেন কুমারখালী গ্রামে। সম্প্রদায়ের অধিকাংশ সদস্যেরই স্থায়ী কর্মসংস্থান ও নির্ভরযোগ্য আবাসনের ব্যবস্থা নেই। সামাজিক ও অর্থনৈতিক নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে তাঁদের জীবন কাটাতে হয়।

এমন বাস্তবতায় নিজেদের সম্প্রদায়ের জন্য স্থায়ী কবরস্থানের ব্যবস্থা হওয়াকে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন তাঁরা। ইতিমধ্যে জমিটি তাঁদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে মৃত্যুর পর দাফনের জায়গা নিয়ে আগের মতো অনিশ্চয়তা ও বিড়ম্বনায় পড়তে হবে না বলে আশা করছেন সম্প্রদায়ের সদস্যরা।

স্থানীয়ভাবে এই উদ্যোগের গুরুত্ব কেবল একটি জমি কেনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সামাজিক কবরস্থানে দাফনের সুযোগ না পাওয়ার মতো বৈষম্যমূলক অভিজ্ঞতার বিপরীতে এটি তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কারণ, একজন মানুষের মৃত্যুর পর সম্মানজনকভাবে শেষ বিদায় পাওয়ার অধিকারও মানবিক মর্যাদার অংশ।

গুরুদাসপুর উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ দীর্ঘদিনের একটি বাস্তব সমস্যার সমাধান করেছে। একই সঙ্গে সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি সহমর্মিতা, দায়িত্বশীলতা এবং সমান মর্যাদা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে। নিজেদের জন্য নির্ধারিত কবরস্থান পাওয়ায় স্থানীয় তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের মধ্যে এখন অন্তত মৃত্যুর পর শেষ আশ্রয় নিয়ে অনিশ্চয়তা অনেকটাই দূর হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category