• শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
শ্রমিক বিক্ষোভে কোনাবাড়ি-চন্দ্রার সব পোশাক কারখানা বন্ধ জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের বিকল্প নেই: রিজভী টিকটক কমেন্টের জেরে সালিশের পরই দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ, আহত ২০ রবিবারই আসছে পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি বোর্ডের গেজেট উপনির্বাচনের ফলেই বিরোধীদের জনপ্রিয়তা কমার প্রমাণ মিলেছে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সৌদির তেলাঞ্চল ও মদিনা লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা প্রেমের ব্যর্থতা থেকে ইয়াবা কারখানা, বাড়িতেই মাদক উৎপাদন! নয়টি গুলির দাবি ভুয়া, হাসিনাসহ ৮৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ পুলিশের ছয় কর্মকর্তার কর্মস্থলে রদবদল, দায়িত্ব হস্তান্তরের সময়সীমা নির্ধারণ পাসের হারে ছাত্রীদের বড় ব্যবধান, জিপিএ-৫-এ এগিয়ে ছাত্ররা

শ্রমিক বিক্ষোভে কোনাবাড়ি-চন্দ্রার সব পোশাক কারখানা বন্ধ

newsline24 / ১৬ Time View
Update : শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
শ্রমিক বিক্ষোভে কোনাবাড়ি-চন্দ্রার সব পোশাক কারখানা বন্ধ
শ্রমিক বিক্ষোভে কোনাবাড়ি-চন্দ্রার সব পোশাক কারখানা বন্ধ

বেতন-ভাতা ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গাজীপুরের কোনাবাড়ি থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। তাঁদের আন্দোলনের কারণে প্রায় ১৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পোশাক কারখানাগুলোর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরের পর সংশ্লিষ্ট এলাকার অধিকাংশ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

একই দাবিতে গাজীপুরের পাশাপাশি সাভারের আশুলিয়াতেও শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেছেন। একপর্যায়ে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় শ্রমিকদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে শিল্প পুলিশের এক সদস্য আহত হয়েছেন।

পুলিশ ও শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরের পর চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে বেতন-ভাতা ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে আশপাশের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরাও তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন।

শ্রমিকদের অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ঢাকা ও উত্তরবঙ্গের মধ্যে চলাচলকারী যাত্রী ও পরিবহনগুলো দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়ে। জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী মানুষ, দূরপাল্লার বাস এবং পণ্যবাহী যানবাহনের যাত্রীরাও ভোগান্তিতে পড়েন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কোনাবাড়ি থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার এলাকার সব পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। কারখানা কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তের ফলে শ্রমিকদের কর্মস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, শনিবার দুপুরের পর কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা তাঁদের দাবি নিয়ে সড়কে নেমেছেন। তাঁদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যান চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে পুলিশ কাজ করছে।

এদিকে আশুলিয়ায় শ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকেরা ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, কালোতালিকাভুক্ত করার প্রথা বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করেন। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার একপর্যায়ে ইটপাটকেলের আঘাতে শিল্প পুলিশের এক সদস্য আহত হন।

শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবির মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়েও সরকারের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা এসেছে। তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের গেজেট আগামীকাল রোববার (১ নভেম্বর) প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) শ্রম ভবনে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ)-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন মন্ত্রী। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের গেজেট প্রকাশের এ তথ্য জানান।

একই সঙ্গে শ্রমিকদের আন্দোলন ও সড়ক অবরোধের কর্মসূচি থেকে সরে এসে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মজুরি বোর্ড গঠনের মাধ্যমে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত দাবিগুলো পর্যালোচনার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

তবে শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবি এবং নতুন মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম ঘিরে তৈরি পোশাকশিল্পে অস্থিরতা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। দেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান এই খাতে উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা যেমন জরুরি, তেমনি শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, কর্মপরিবেশ এবং চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা অনেকটাই নির্ভর করবে শ্রমিক, মালিকপক্ষ ও সরকারের মধ্যে আলোচনার অগ্রগতির ওপর।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category