• শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
শ্রমিক বিক্ষোভে কোনাবাড়ি-চন্দ্রার সব পোশাক কারখানা বন্ধ জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের বিকল্প নেই: রিজভী টিকটক কমেন্টের জেরে সালিশের পরই দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ, আহত ২০ রবিবারই আসছে পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি বোর্ডের গেজেট উপনির্বাচনের ফলেই বিরোধীদের জনপ্রিয়তা কমার প্রমাণ মিলেছে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সৌদির তেলাঞ্চল ও মদিনা লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা প্রেমের ব্যর্থতা থেকে ইয়াবা কারখানা, বাড়িতেই মাদক উৎপাদন! নয়টি গুলির দাবি ভুয়া, হাসিনাসহ ৮৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ পুলিশের ছয় কর্মকর্তার কর্মস্থলে রদবদল, দায়িত্ব হস্তান্তরের সময়সীমা নির্ধারণ পাসের হারে ছাত্রীদের বড় ব্যবধান, জিপিএ-৫-এ এগিয়ে ছাত্ররা

উপনির্বাচনের ফলেই বিরোধীদের জনপ্রিয়তা কমার প্রমাণ মিলেছে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

newsline24 / ১২ Time View
Update : শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
উপনির্বাচনের ফলেই বিরোধীদের জনপ্রিয়তা কমার প্রমাণ মিলেছে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
উপনির্বাচনের ফলেই বিরোধীদের জনপ্রিয়তা কমার প্রমাণ মিলেছে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির বড় ব্যবধানের জয়কে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তাঁর দাবি, এই নির্বাচনের ফলাফলের মধ্য দিয়ে বিরোধী দলের জনপ্রিয়তায় উল্লেখযোগ্য ধসের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। সরকারের আট মাসের কর্মকাণ্ড বিবেচনা করেই ঠাকুরগাঁওয়ের ভোটাররা নিজেদের রায় দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে ঠাকুরগাঁওয়ের টাঙন ব্যারেজে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরা উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আট মাসে দেশের জন্য কী করেছে এবং কোথায় কী ধরনের কাজ করেছে, তা জনগণ পর্যবেক্ষণ করছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে কী ভূমিকা রাখছে, সেটিও সাধারণ মানুষ বিবেচনায় নিচ্ছে। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের ফলাফলকে তিনি সরকারের কর্মকাণ্ডের প্রতি জনগণের সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যারা বর্তমানে বিক্ষোভের ডাক দিচ্ছে, তারা অতীতেও বিভিন্ন সময়ে লংমার্চ ও রোডমার্চের মতো কর্মসূচি পালন করেছে। কিন্তু নির্বাচনের মাঠে জনগণের দেওয়া রায় তাদের রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। তাঁর ভাষ্য, নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে বিরোধী দলের প্রার্থী পেয়েছেন তুলনামূলকভাবে খুব কম ভোট। বিরোধী দলের অতীত কর্মকাণ্ডের কারণেই সাধারণ মানুষের মধ্যে তাদের জনপ্রিয়তা কমেছে বলে মনে করেন তিনি।

এ সময় দেশের নদী ও খাল খনন কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, সারা দেশে নদী ও খাল খননে সরকার বড় ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এসব কার্যক্রমের অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া প্রধানমন্ত্রী নিজেই তদারকি করছেন। প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতে কী হয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা না করে বর্তমান কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রতি মাসে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কাজের অগ্রগতি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন জমা দিতে হয়।

দেশের পানি ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর মধ্যে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তাঁর মতে, নদী ও খাল খননের মাধ্যমে পানির ধারণক্ষমতা বাড়ানো গেলে একদিকে বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি ব্যবস্থাপনা সহজ হবে, অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে সেচ ও অন্যান্য প্রয়োজনে পানির ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, জলাবদ্ধতা কমানো এবং জলজ সম্পদ রক্ষায়ও এসব উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

টাঙন ব্যারেজের মাছ ধরা উৎসব প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদী ও খালের স্বাভাবিক প্রবাহ এবং পানি ধারণক্ষমতা বাড়ানো গেলে মাছের আবাসস্থল ও প্রজননের পরিবেশ উন্নত হবে। এতে স্থানীয় জেলেদের জীবিকা এবং মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধির সম্ভাবনাও তৈরি হবে। মাছের স্বল্পতা দূর করতে পরিকল্পিতভাবে খাল খনন ও জলাশয় ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্ব শেষে টাঙন ব্যারেজের তিনটি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়। এরপরই শুরু হয় বহুল প্রতীক্ষিত মাছ ধরা উৎসব। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হাজার হাজার স্থানীয় জেলে ও সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেন। ব্যারেজ ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় মানুষের কাছে এই আয়োজন শুধু মাছ ধরার উপলক্ষ নয়, বরং ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্প্রীতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল হক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কৃষ্ণ কমল সরকার, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি নদী-খাল পুনঃখনন, পানি সংরক্ষণ এবং মৎস্যসম্পদ উন্নয়নের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পায়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব উদ্যোগ পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় অর্থনীতি ও কৃষি খাতের পাশাপাশি নদীনির্ভর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category