পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শ্রমিকেরা মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ শুরু করেন। পরে বেলা ১১টার দিকে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে মিরপুর-১১, মিরপুর-১২ ও প্রশিকা মোড় এলাকায়। বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা এসব স্থানে সড়কের ওপর অবস্থান নিয়ে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দেন। একপর্যায়ে এসব এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
শ্রমিকদের অবরোধের কারণে মিরপুরের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। বিশেষ করে অফিস ও কর্মস্থলগামী মানুষকে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হয়। গণপরিবহনের যাত্রীরাও পড়েন দুর্ভোগে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের মিরপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আবুল বাসার মোল্ল্যা বলেন, বেতন বাড়ানোর দাবিতে মিরপুরের বিভিন্ন স্থানে পোশাকশ্রমিকেরা বিক্ষিপ্তভাবে সড়ক অবরোধ করেছেন। এতে কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জালাল উদ্দিন জানান, বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা মিরপুর-১১ ও মিরপুর-১২ এলাকায় সড়ক অবরোধ করেছেন। শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে অবরোধ প্রত্যাহার এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে যানজট নিয়ন্ত্রণ ও জনদুর্ভোগ কমাতে কাজ করছে ট্রাফিক পুলিশ। ডিএমপির ট্রাফিক মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন বলেন, সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিভিন্ন যানবাহনকে বিকল্প সড়ক দিয়ে চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
দুই দিন পর আবারও একই দাবিতে অবরোধ
এর আগে গত বৃহস্পতিবারও (২৯ অক্টোবর) একই দাবিতে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে সড়ক অবরোধ করেছিলেন পোশাকশ্রমিকেরা। সেদিন সকাল ১০টার দিকে শুরু হওয়া ওই কর্মসূচিতে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এর দুই দিন পর শনিবার আবারও একই দাবিতে রাজপথে নামলেন বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা।
শ্রমিকদের মূল দাবি, তাঁদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে। বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াত খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছেন তাঁরা। পোশাকশিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সময়ে দাবি ও আন্দোলন দেখা গেছে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত। এ শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের আয় ও জীবনযাত্রার মানের সঙ্গে উৎপাদন, শ্রমিক অসন্তোষ এবং শিল্পের স্থিতিশীলতার বিষয়গুলোও জড়িত। ফলে মজুরি নিয়ে শ্রমিকদের দাবির বিষয়টি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি এ ধরনের আন্দোলনের কারণে উৎপাদন ও স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হওয়ার বিষয়টিও উদ্বেগ তৈরি করে।
শনিবারের অবরোধের পর শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের আলোচনা চলছিল। তবে তাঁদের ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মাসিক মজুরির দাবি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত বা আশ্বাসের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ফলে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নিয়ে মিরপুর এলাকার বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।