নীলফামারীর ডিমলা সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. মোস্তাকিম (৪০) নামে এক মাদককারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় তার কাছ থেকে ইয়াবা, নগদ টাকা, স্মার্টফোন, সিমকার্ড ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি)। এর আগে মঙ্গলবার রাতে ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের তেলিয়াপাড়া মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোস্তাকিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মোস্তাকিম ডিমলা উপজেলার শোভনগঞ্জ ইউনিয়নের তেলিয়াপাড়া গ্রামের মো. সবুর উদ্দিনের ছেলে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন তেলিয়াপাড়া মোড় এলাকায় মাদক কারবারের খবর পেয়ে বিজিবির একটি টহল দল সেখানে অভিযান চালায়। হাবিলদার মো. আলী ওসমানের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে মোস্তাকিম পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে টহল দলের সদস্যরা ধাওয়া করে তাকে আটক করেন।
গ্রেপ্তারের পর তার শরীরে ও সঙ্গে থাকা মালামালে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ২১ পিস ইয়াবা, দুটি স্মার্টফোন, দুটি সিমকার্ড, মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল, একটি স্কুল ব্যাগ এবং মাদক বিক্রির নগদ এক লাখ ৫২ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। বিজিবির হিসাবে জব্দ করা ইয়াবা ও অন্যান্য আলামতসহ উদ্ধার করা মালামালের মোট বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার ১০০ টাকা।
বিজিবি আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোস্তাকিম সীমান্ত এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ ঘটনায় জড়িত আরও দুই ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন ডিমলা উপজেলার ঝাড়সিংহেশ্বর গ্রামের মো. মোকলেস হোসেন ও মো. জহির উদ্দিন ওরফে জুয়েল। অভিযানের সময় তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি) অধিনায়ক জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার মোস্তাকিমকে জব্দ করা আলামতসহ ডিমলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পলাতক দুই ব্যক্তিসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিজিবি জব্দ করা আলামতসহ আটক ব্যক্তিকে থানায় হস্তান্তর করেছে এবং বিজিবির পক্ষ থেকে এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার মোস্তাকিমকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে এজাহারভুক্ত পলাতক দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে বিজিবির পাশাপাশি পুলিশের যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় ডিমলার বিভিন্ন পয়েন্টে মাদক চোরাচালান ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে করা মামলার পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়াই এখন বিষয়টির পরবর্তী ধাপ।