• বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১০ অপরাহ্ন

স্বর্ণ ছিনতাই মামলায় কনস্টেবল জাকিরের দুই দিনের রিমান্ড

newsline24 / ১২ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
স্বর্ণ ছিনতাই মামলায় কনস্টেবল জাকিরের দুই দিনের রিমান্ড
স্বর্ণ ছিনতাই মামলায় কনস্টেবল জাকিরের দুই দিনের রিমান্ড

চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক ব্যবসায়ীর ৪০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাইয়ের মামলায় গ্রেপ্তার পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। মামলায় জাকিরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। জেলা কারাগার থেকে জাকিরকে হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

মামলার আরেক আসামি চাঁপাইনবাবগঞ্জের চক আলমপুর এলাকার মোহাম্মদ আলী গ্রেপ্তারের পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ফলে তাকে নতুন করে রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোহাম্মদ আলী দাবি করেন, তাঁর শ্যালক নিঝুমের ৪০ ভরি স্বর্ণের চালান তিনিই চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিয়ে যান। পুলিশি অভিযানের কথা বলে ওই স্বর্ণ ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনায় তিনি কনস্টেবল জাকির হোসেনকে যুক্ত করেন। পরে অন্য এক ব্যবসায়ীর হাতে স্বর্ণ তুলে দেওয়ার পর জাকির এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে সেটি ছিনিয়ে নেন বলে তাঁর দাবি।

পুলিশের তথ্যানুযায়ী, গত ৮ আগস্ট বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কালীতলা ব্রিজ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ওই রাতেই জাকিরের গতিবিধি নিয়েও তথ্য পেয়েছে তদন্তকারীরা। রাত ২টা ২ মিনিট থেকে ২টা ৪৪ মিনিটের মধ্যে তিনি তাঁর চাচাতো ভাই মশিউর রহমানকে ছয়বার ফোন করেন। এ সময়ে তাঁদের মোট ২৮ মিনিট কথা হয়।

এরপর ৯ আগস্ট ভোরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামপুরে গ্রামের বাড়ির দিকে যান জাকির। সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে তাঁকে দুর্গাপুরের আলীপুর এলাকায় এবং ৮টা ২০ মিনিটে পাচুবাড়ি এলাকায় অবস্থান করতে দেখা যায় বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা গেছে। পরে তিনি দুর্গাপুরের পাশের বাগমারা উপজেলার গঙ্গানারায়ণপুর, মোহনপুরের বাকশিমইল ও সইপাড়া হয়ে তানোর উপজেলা সদরে যান। সেখান থেকে মুন্ডুমালা-আমনূরা সড়ক দিয়ে সকাল ১০টার মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফেরেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এ সময়ের আগে ও পরে এলাকার দুই স্বর্ণকারের সঙ্গে তাঁর ফোনে যোগাযোগের তথ্যও তদন্তে এসেছে। তাঁদের একজনের সঙ্গে ওই দিন জাকির চারবার ফোনে কথা বলেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনার পর জাকির ১০ দিনের ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যান। ছুটি শেষে অফিসার্স মেসে যোগ দিলে তাঁকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়। এর মধ্যে গত শনিবার রাতে ব্যবসায়ী নিঝুম জাকির হোসেন, মোহাম্মদ আলীসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে ওই রাতেই পুলিশ লাইন থেকে জাকিরকে এবং তাঁর বাড়ি থেকে মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযানের সময় মোহাম্মদ আলীর বাড়ি থেকে সাড়ে ২০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে মোহাম্মদ আলী দাবি করেন, বাকি প্রায় ২০ ভরি স্বর্ণ কনস্টেবল জাকির হোসেনের কাছে রয়েছে। তবে জাকির এ বিষয়ে এখনো কোনো স্বীকারোক্তি দেননি।

পুলিশ বলছে, উদ্ধার না হওয়া স্বর্ণের অবস্থান এবং ছিনতাইয়ের ঘটনায় জাকিরের ভূমিকা সম্পর্কে তথ্য পেতেই তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তে পাওয়া ফোন যোগাযোগ, ঘটনার সময়ের গতিবিধি এবং উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের সূত্রগুলোও যাচাই করা হচ্ছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category