জনগণের ভোটাধিকার, মতামত ও স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই বিএনপি রাজনীতি করে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, বিএনপি সব সময় জনগণের সরাসরি ভোট ও ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনায় বিশ্বাসী। বিনা ভোটে কিংবা রাতের আঁধারে নির্বাচন করে ক্ষমতায় যাওয়ার কোনো রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা দলটির নেই।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরের আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধ ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্পে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী এই বিনা মূল্যের স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের কাছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
মীর শাহে আলম বলেন, বিএনপি সব সময় জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের মতামতের প্রতিফলন ঘটানো দলটির রাজনৈতিক অবস্থানের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। জনগণের সমর্থন ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পক্ষে বিএনপি নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বর্তমান সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী ও সাহসী নেতৃত্বে সরকার জনগণের কল্যাণ ও সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। সরকারের প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। দায়িত্ব পালনে অনিয়ম কিংবা জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।
তিনি জানান, সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পদ কিংবা রাজনৈতিক পরিচয় কাউকে জবাবদিহিতার বাইরে রাখবে না—সরকারের অবস্থান এমনই। জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ড সরকার বরদাশত করবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি উপনির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে মীর শাহে আলম বলেন, ওই নির্বাচনে জনগণ রাজনৈতিক চক্রান্ত প্রত্যাখ্যান করে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছে। তাঁর দাবি, অনৈতিক কর্মকাণ্ড আড়াল করতে যারা সস্তা রাজনৈতিক কৌশলের আশ্রয় নেয়, ভোটাররা তাদের প্রত্যাখ্যান করেছেন।
সরকারের ভুলত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা স্বীকার করার বিষয়টিকেও রাজনৈতিক সততার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারের কোনো ব্যর্থতা কিংবা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মতো জনদুর্ভোগের ঘটনা ঘটলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে সমস্যার কারণ এবং তা মোকাবিলায় সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনাও তুলে ধরেন।
মীর শাহে আলমের মতে, ভুল হলে তা স্বীকার করা, জনগণের কাছে জবাবদিহি করা এবং সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়াই দায়িত্বশীল রাজনীতির পরিচয়। এ ক্ষেত্রেই বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে অন্য দলগুলোর পার্থক্য রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আয়োজিত স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্পের মাধ্যমে নগরবাসীকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যপরামর্শ ও প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বর্ষা-পরবর্তী সময়েও ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার মতো বিষয়ে জনসচেতনতা জরুরি। বিশেষ করে বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু সিটি করপোরেশনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; নগরবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণও প্রয়োজন। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার মাধ্যমে রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। এ ধরনের বিনা মূল্যের স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প সাধারণ মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যসচেতনতা তৈরিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।