২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন মোট ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থী। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর কথা বিবেচনায় নিয়ে তাদের জন্য দ্রুত পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ চালুর বিষয়টি সামনে এসেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক অনুষ্ঠানে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য এ সুযোগের কথা জানান।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হলে সাধারণত পরবর্তী বছর আবার পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। সে ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা চাইলে শুধু অকৃতকার্য বিষয়গুলোতে অথবা সব বিষয়ে পুনরায় পরীক্ষা দিতে পারেন। তবে নতুন উদ্যোগ কার্যকর হলে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য এই নিয়মে পরিবর্তন আসবে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ফল প্রকাশের এক মাসের মধ্যে শুধু অকৃতকার্য বিষয়গুলোতে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। অর্থাৎ, একটি বা দুটি বিষয়ে খারাপ ফলের কারণে পুরো শিক্ষাবর্ষ অপেক্ষা করতে হবে না শিক্ষার্থীদের। তবে এ উদ্যোগের বাস্তবায়ন, পরীক্ষার সময়সূচি ও বিস্তারিত প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ কার্যকর হলে শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। অনেক সময় একটি বা দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শিক্ষাজীবনে প্রবেশ এক বছর পিছিয়ে যায়। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি এবং অন্যান্য শিক্ষাসংশ্লিষ্ট পরিকল্পনায় এর প্রভাব পড়ে। দ্রুত পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ চালু হলে সেই অনিশ্চয়তা ও দীর্ঘ অপেক্ষা অনেকটাই কমে আসবে।
এ ছাড়া পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে হতাশা ও মানসিক চাপ তৈরি হয়, সেটিও কমাতে সহায়ক হতে পারে এই ব্যবস্থা। তবে নতুন সুযোগের ক্ষেত্রে পরীক্ষার মান, প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় এবং মূল্যায়নপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করাও জরুরি।
এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেওয়ার কথা ছিল। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে। এতে অংশ নেয় ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
গত ২ জুলাই শুরু হয়েছিল এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৮ আগস্ট। তবে বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষাসূচিতে পরিবর্তন আনতে হয়। ওই বোর্ডের স্থগিত পরীক্ষাগুলো পরবর্তী সময়ে ৯ সেপ্টেম্বর শেষ হয়।
এদিকে প্রকাশিত ফলাফলে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীদের জন্য উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের আবেদনের সুযোগও রাখা হয়েছে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে এ আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। যেসব শিক্ষার্থী মনে করছেন, তাদের উত্তরপত্র মূল্যায়নে ভুল হয়েছে কিংবা প্রাপ্ত নম্বর প্রত্যাশার তুলনায় কম এসেছে, তারা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করতে পারবেন।
সব মিলিয়ে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য দ্রুত পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ চালুর উদ্যোগটি এবারের এইচএসসি ফল প্রকাশের পর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হিসেবে সামনে এসেছে। এটি বাস্তবায়িত হলে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেবে এবং উচ্চশিক্ষার পথে এক বছরের বিলম্ব এড়াতে সহায়তা করবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও কার্যকর নিয়মাবলি সম্পর্কে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা বোর্ডগুলোর পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকতে হবে।