নারীর স্বাস্থ্যসেবাকে জাতীয় উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও মানবসম্পদ বিকাশের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি জানিয়েছেন, নারীর স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগকে ব্যয় হিসেবে নয়, বরং দেশের ভবিষ্যতের জন্য কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার। এ খাতে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের সঙ্গে ২৫ কোটি ইউরোর রেয়াতি ঋণ অর্থায়নের চুক্তি হয়েছে। পাশাপাশি জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) ২ কোটি ৫০ লাখ ইউরো অনুদান সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) জার্মানির বার্লিনে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের হল-২-এ ইউএনএফপিএ আয়োজিত ‘দ্য মোমেন্ট ইজ নাউ: আনলকিং নিউ ক্যাপিটাল ফর উইমেনস হেলথ বিয়ন্ড এইড’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার কিশোরী ও নারীদের স্বাস্থ্যসেবাকে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা রূপান্তরের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁর ভাষ্য, নারীর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা গেলে মানবসম্পদের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কল্যাণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বাংলাদেশে নারীশিক্ষা, পরিবার পরিকল্পনা ও ক্ষমতায়নের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করেন। তাঁর মতে, গ্রামীণ উন্নয়ন, পরিবার পরিকল্পনা ও জনগণের অংশগ্রহণে জিয়াউর রহমানের উদ্যোগ সামাজিক উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে দেয়। অন্যদিকে, মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের উপবৃত্তিসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে নারীশিক্ষার প্রসারে ভূমিকা রাখেন খালেদা জিয়া।
ডা. জুবাইদা রহমান জানান, সরকারের পরিকল্পনায় মাতৃস্বাস্থ্যের পাশাপাশি কিশোরীদের পুষ্টি, রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ, যৌন ও প্রজননস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, মাতৃ ও নবজাতকের চিকিৎসা এবং জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ ও চিকিৎসা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অর্থাৎ, নারীর জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে এক লাখ কমিউনিটি হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িং কর্মী এবং অতিরিক্ত ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরুর কথাও জানান তিনি। এসব কর্মীর মাধ্যমে কমিউনিটি পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা বাড়ানো, নিরাপদ ও স্বাভাবিক প্রসব উৎসাহিত করা এবং প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে সমন্বিত মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবার নির্ভরযোগ্য কেন্দ্রে পরিণত করতে চায় সরকার। সেখানে স্বাভাবিক প্রসবের পাশাপাশি জরুরি প্রসূতি ও নবজাতকের চিকিৎসা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। জটিল রোগীর ক্ষেত্রে বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানোর কার্যকর ব্যবস্থা থাকবে। তবে প্রয়োজনীয় মাতৃস্বাস্থ্যসেবা পেতে কোনো নারীকে যেন নিজের উপজেলার বাইরে যেতে না হয়, সেটিই সরকারের লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের নারীস্বাস্থ্য উন্নয়ন উদ্যোগের অর্থায়ন ও কারিগরি সহযোগিতার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের ঋণের পাশাপাশি ইউএনএফপিএর প্রস্তাবিত অনুদান কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইউএনএফপিএর চিফ অব স্টাফ ড. নিগিনা মুনতিয়ান। মূল বক্তব্য দেন জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও ইউএনএফপিএর নির্বাহী পরিচালক ড. দিয়েন কেইতা। আলোচনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার, জার্মানির ফেডারেল অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের পার্লামেন্টারি স্টেট সেক্রেটারি ড. বারবেল কফলার, ঘানার স্বাস্থ্যমন্ত্রী কোয়াবেনা মিন্টাহ আকানদোহ এবং ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট মারেক মোরা। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।