ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ আগামী ২১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোট নেওয়া হবে ৪ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপে ২৯ এপ্রিল এবং চতুর্থ ও পঞ্চম ধাপে যথাক্রমে ১৩ ও ২৭ মে। সোমবার (১২ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘোষিত নির্বাচনী রোডম্যাপে এ সূচি জানানো হয়েছে।
এদিন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি জানান, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পাঁচ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করা হবে বলেও জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ আর সহিংসতাপূর্ণ নির্বাচনের পথে হাঁটবে না। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে কমিশন সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ভোট হবে ২১ জানুয়ারি। এরপর দ্বিতীয় ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি এবং তৃতীয় ধাপে ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। চতুর্থ ধাপের ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ মে। সর্বশেষ পঞ্চম ধাপের ভোট হবে ২৭ মে। ফলে জানুয়ারিতে শুরু হয়ে মে মাসের শেষ দিকে পাঁচ ধাপের এই নির্বাচনী কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণ ও সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করতে সোমবার সকালে বৈঠকে বসে নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে সকাল সাড়ে ১০টায় নির্বাচন ভবনে কমিশনের সভা শুরু হয়। এতে চার নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ স্তর ইউনিয়ন পরিষদ। গ্রামীণ এলাকার নাগরিক সেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে এই প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটের সময়সূচি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তবে ঘোষিত রোডম্যাপের বাইরে ধাপভিত্তিক নির্বাচনের বিস্তারিত তফসিল, মনোনয়নপত্র জমা ও প্রত্যাহারের সময়সীমা এবং প্রার্থীদের প্রচারণার সময়সূচি সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হয়নি। এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় থাকতে হবে।